নির্বাচনের কাজে ‘নো এন্ট্রি’ সিভিক ভলান্টিয়ারদের! বুথ পাহারা দেবে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ?

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত করতে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের কোনও স্তরেই—তা বুথ পাহারা হোক বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা—কোনওভাবেই সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteer) বা গ্রিন পুলিশ (Green Police) ব্যবহার করা যাবে না।

কমিশনের কড়া বার্তা

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, নির্বাচন চলাকালীন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বা আইন-শৃঙ্খলার কাজে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিয়মিত রাজ্য পুলিশই (Regular Police) মোতায়েন থাকবে। সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশ যেহেতু স্থায়ী পুলিশ কর্মী নন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিকবার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

বিরোধী দলগুলি বারবার অভিযোগ তুলে আসছিল যে, নির্বাচনের সময় সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করানো হয়। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনেও এই নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। এবার আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কমিশন।

  • কমিশনের যুক্তি: স্পর্শকাতর বুথ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে প্রশিক্ষিত ও স্থায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর বিকল্প নেই।

  • দায়বদ্ধতা: নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিভিক কর্মীদের ব্যবহার করলে আইনি জটিলতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠতে পারে, যা এড়াতে চাইছে কমিশন।

প্রশাসনের ওপর প্রভাব

কমিশনের এই নির্দেশের ফলে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। কারণ, বিশাল সংখ্যক সিভিক ভলান্টিয়ারকে সরিয়ে রেখে কেবল রাজ্য পুলিশ দিয়ে ট্রাফিক বা ভিড় সামলানো এবং বুথ পাহারা দেওয়া যথেষ্ট কঠিন কাজ। এর ফলে রাজ্যে আরও বেশি পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভোটের আগে কমিশনের এই ‘বড় নির্দেশ’ কি তবে বাংলায় পেশী শক্তির আস্ফালন কমাতে সাহায্য করবে? শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরজা ছাপিয়ে আপাতত এটাই এখন ময়দানের বড় চর্চা।