রেকর্ড সময় কারাবাস! সব বাধা পেরিয়ে জেলের বাইরে সুদীপ্ত সেন, বড়সড় ধামাকার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল

বাংলার ইতিহাসের বৃহত্তম অর্থ কেলেঙ্কারী ‘সারদা’ মামলার প্রধান নায়ক সুদীপ্ত সেন অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর অন্ধকারের আড়াল থেকে মুক্ত পৃথিবীতে পা রাখতে চলেছেন। বুধবার আদালতের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা শেষ মামলাটিতেও জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে সারদাকর্তার জেলমুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
২০১৩ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর কেটে গিয়েছে এক দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED)-র দায়ের করা কয়েক ডজন মামলার জালে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। একের পর এক মামলায় জামিন পেলেও, শেষ কয়েকটি মামলার কারণে তাঁর কারামুক্তি আটকে ছিল। আজ সেই জটও কেটে গেল।
কেন এই মুক্তি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ?
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তিকে ঘিরে ইতিমধেই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।
-
বিস্ফোরক চিঠি: জেলবন্দি থাকাকালীন সুদীপ্ত সেন বারংবার চিঠি লিখে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের একাধিক ‘প্রভাবশালী’ নেতার নাম ফাঁস করেছিলেন।
-
ভোটের অঙ্ক: তাঁর এই মুক্তি কি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেবে? তিনি কি বাইরে বেরিয়ে আরও কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করবেন? এই প্রশ্নে এখন তটস্থ অনেক হেভিওয়েট নেতা।
আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে থাকা এবং সুদীপ্ত সেনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই এই জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে এবং তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো সময় হাজিরা দিতে হবে।
সারদা কাণ্ডে সর্বস্ব হারানো লক্ষ লক্ষ আমানতকারীর কাছে সুদীপ্ত সেনের এই মুক্তি একরাশ ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে এলেও, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি নিঃসন্দেহে বছরের সবথেকে বড় ‘টুইস্ট’।