২০ বছর পর একাই লড়ছে কংগ্রেস! ভোটের মুখে নাটকীয় মোড়, ৭ আসনে হঠাতই বদলাল প্রার্থী

মঙ্গলবার কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল এআইসিসি (AICC)। দক্ষিণবঙ্গের চার গুরুত্বপূর্ণ জেলার সাতটি আসনে এক ধাক্কায় প্রার্থী বদল করল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। একইসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার হাইভোল্টেজ হাবড়া আসনেও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে. সি. বেণুগোপাল বুধবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই রদবদলের কথা জানিয়েছেন। ২০ বছর পর এবারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনেই এককভাবে লড়াই করছে হাত শিবির। তবে মনোনয়ন পর্ব চলাকালীন এই আকস্মিক পরিবর্তনে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কোথায় কারা পেলেন টিকিট?
নদিয়া জেলায় নাকাশিপাড়া আসনে গোলাম কিবরিয়া মণ্ডলের পরিবর্তে তাহির শেখ এবং চাপড়ায় রহিদুল মণ্ডলের জায়গায় আসিফ খানকে প্রার্থী করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখায় বর্ণালী নস্করের বদলে টিকিট পেয়েছেন সুনয়না বিশ্বাস। হাবড়া আসনে এতদিন প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হলেও, এদিন প্রণব ভট্টাচার্যের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার আসনে কৌশিক বৈদ্যকে সরিয়ে চাঁদ সরদারকে লড়াইয়ে নামিয়েছে কংগ্রেস। বর্ধমানের ছবিটাও একই; রায়না, কেতুগ্রাম এবং আউশগ্রামে যথাক্রমে পম্পা মালিক, শেখ আবু বক্কর এবং তাপস বড়ালকে নতুন মুখ হিসেবে তুলে আনা হয়েছে।
বিক্ষোভ সত্ত্বেও বদল নেই বালিগঞ্জ-শ্যামপুরে
প্রার্থী বদল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই কংগ্রেসের অন্দরে গৃহযুদ্ধ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে কলকাতার বালিগঞ্জ এবং হাওড়ার শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছিল। কর্মীদের হাতাহাতি ও রক্তারক্তি পর্যন্ত গড়িয়েছিল পরিস্থিতি। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিক্ষোভ সত্ত্বেও এই দুই কেন্দ্রে পুরনো প্রার্থীদের ওপরই ভরসা রেখেছে দল।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ২৯শে এপ্রিলের নির্বাচনের আগে এই রদবদল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। দলের একাংশের মতে, প্রার্থী ঘোষণা করতে এমনিতেই অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল, এখন শেষ মুহূর্তে বদল করায় প্রচারের সময় কম পাওয়া যাবে। তবে হাইকম্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত ছাব্বিশের মহারণে কংগ্রেসকে কতটা অক্সিজেন দেয়, সেটাই এখন দেখার।