ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ইরান যুদ্ধে ২ সপ্তাহের বিরতি ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে শান্তির হাওয়া, চাঙ্গা ভারতের শেয়ার বাজার

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ আচমকা কেটে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে খুশির হাওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই বুধবার সকালে ভারতীয় শেয়ার বাজার ও রুপির দরে রেকর্ড উত্থান লক্ষ্য করা গেল। গত মঙ্গলবার ৯৩.০৬-এ বন্ধ হওয়ার পর, বুধবার লেনদেনের শুরুতেই ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ৫০ পয়সা বেড়ে ৯২.৫৬-এ দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধবিরতির খবরের প্রভাব পড়েছে দালাল স্ট্রিটেও। আজ বাজার খুলতেই সেনসেক্স ২৮০০ পয়েন্টের বেশি লাফিয়ে ৭৭,১৪৪-এর ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিফটিও, যা ৮২১ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। লগ্নিকারীদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে লগ্নির ঝুঁকি কমেছে এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা বাজারকে চাঙ্গা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ১২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হওয়ায় তেল সরবরাহে বাধা কাটার স্বস্তি মিলেছে।

শক্তিশালী রুপিতে আপনার কী লাভ?
রুপির এই শক্তিবৃদ্ধি কেবল শেয়ার বাজার নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের পকেটেও:

সস্তা জ্বালানি: ভারত তার প্রয়োজনের ৮০% তেল আমদানি করে। রুপি শক্তিশালী হওয়ায় তেল আমদানির খরচ কমবে, ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লাগাম পড়বে মুদ্রাস্ফীতিতে: জ্বালানি সস্তা হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমে। ফলে শাকসবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে।

গ্যাজেট হবে সস্তা: মোবাইল, ল্যাপটপ বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে খরচ কমবে। ফলে প্রযুক্তিপ্রেমীরা কম দামে গ্যাজেট কিনতে পারবেন।

বিদেশ ভ্রমণ ও পড়াশোনা: যারা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা যাদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করছে, ডলার প্রতি সাশ্রয় হওয়ায় তাঁদের খরচ অনেকটা কমে যাবে।