“হিজবুল্লাহর খাঁচা থেকে মুক্তি!”-রাস্তা থেকে নিখোঁজ সাংবাদিককে ছাড়তে কী শর্ত দিল জঙ্গি গোষ্ঠী?

অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল হোয়াইট হাউস। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে অপহৃত হওয়া আমেরিকার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক শেলি কিটলসন (৪৯) দীর্ঘ এক সপ্তাহ বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ইরান ও আমেরিকার যৌথ তৎপরতায় তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অপহরণের নেপথ্যে কারা? গত ৩১ মার্চ বাগদাদের জনবহুল রাস্তা থেকে শেলিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগের আঙুল উঠেছিল ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইরাকি আধাসামরিক বাহিনী ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ’-র দিকে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই গোষ্ঠী জানায়, ইরাকের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানির প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা শেলিকে মুক্তি দিচ্ছে। তবে শর্ত একটাই— মুক্তি পাওয়ার পরপরই তাঁকে ইরাক ছাড়তে হবে।

গোপন ‘বন্দি বিনিময়’ চুক্তি? যদিও হিজবুল্লাহ একে ‘সহমর্মিতা’ বলে দাবি করছে, তবে সংবাদ সংস্থা এপি (AP)-র রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। জানা গিয়েছে, এই মুক্তির নেপথ্যে রয়েছে একটি গোপন বন্দি বিনিময় চুক্তি। ইরাকি প্রশাসনের হাতে বন্দি কাতাইব হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়েই শেলিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে তারা।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া: আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেলির মুক্তির খবর নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছি। আমাদের নাগরিক এখন মুক্ত। তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য এফবিআই এবং ইরাক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বিপজ্জনক সাংবাদিকতা: শেলি কিটলসন দীর্ঘ দিন ধরে ইরাক ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করে আসছেন। রোমকে নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করলেও খবর সংগ্রহের নেশায় বারবার তিনি পশ্চিম এশিয়ায় ছুটে গিয়েছেন। যদিও মার্কিন প্রশাসন তাঁকে বারবার ইরাক ভ্রমণের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। বর্তমানে তাঁকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি খুব শীঘ্রই ইরাক ত্যাগ করবেন।