বরফ গলছে দিল্লির বুকে! টানাপোড়েন কাটিয়ে জয়শঙ্করের দরবারে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কী হতে চলেছে নতুন সমীকরণ?

গত কয়েক মাসের শীতলতা কাটিয়ে এবার কি তবে উষ্ণতা ফিরছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে? মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির মাটিতে পা রাখলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সঙ্গে রয়েছেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। কূটনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনা পরবর্তী অধ্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সফর ঢাকার।

কেন এই সফর? কী আছে বিশেষ অ্যাজেন্ডায়?

খলিলুর রহমানের এই সফরের ঝুলিতে রয়েছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মূলত থমকে থাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ফের ট্র্যাকে ফেরানোই এর প্রধান লক্ষ্য।

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: ২০১৭ সালের ডিজেল সরবরাহ চুক্তিকে আরও মজবুত করতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-র সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট মেটাতে ভারতের সাহায্য চাইছে ঢাকা।

  • পরিকাঠামো উদ্ধার: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থমকে যাওয়া একাধিক ভারতীয় রেল ও সড়ক প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার আর্জি জানাবে বাংলাদেশ।

  • নিরাপত্তা ও কৌশল: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।

কূটনৈতিক সমীকরণ: বিশ্বাস ফেরানোর লড়াই

হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে দুই দেশই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই পুরনো তিক্ততা ভুলে পারস্পরিক বিশ্বাস ফেরাতে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লির সাউথ ব্লক থেকে কী বার্তা পায় ঢাকা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দক্ষিণ এশিয়া। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে খলিলুর রহমানের করমর্দন কি নতুন কোনো সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার বৈঠকেই।