“এবার খেলা হবে সমানে সমানে!” ভবানীপুর থেকে ব্যারাকপুর— বিজেপির ‘জায়েন্ট কিলার’ মডেলে সিঁদুরে মেঘ ঘাসফুল শিবিরে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন আর কেবল ভোটের লড়াই নেই, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মর্যাদার লড়াই। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীদের তাঁদের নিজেদের গড়েই ধরাশায়ী করতে বিজেপি এবার ‘জায়েন্ট কিলার’ রণকৌশল নিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে কৌস্তভ বাগচী— পদ্মশিবিরের এই ‘অর্জুন’রা কোন কোন হেভিওয়েটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন? একনজরে দেখে নিন বিজেপির সেই সম্ভাব্য জায়েন্ট কিলারদের তালিকা:
১. শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম): একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে ‘জায়েন্ট কিলার’ তকমা পেয়েছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬-এ তিনি লড়ছেন জোড়া কেন্দ্রে। একদিকে নিজের গড় নন্দীগ্রাম, অন্যদিকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন তিনি। এই লড়াইকে ‘বাংলার সেরা ফাইট’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
২. কৌস্তভ বাগচী (ব্যারাকপুর): কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে আসা তেজস্বী আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে বিজেপি নামিয়েছে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। তাঁর বিপরীতে তৃণমূলের বাজি অভিনেতা রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুরের ‘ঘরের ছেলে’ বনাম ‘তারকা’ প্রার্থীর এই লড়াইয়ে কৌস্তভকে বড় জায়েন্ট কিলার হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব।
৩. অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া): ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বেতাজ বাদশা অর্জুন সিং এবার লড়ছেন নোয়াপাড়া থেকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এই অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে মরিয়া তিনি।
৪. তাপস রায় (কলকাতা উত্তর): তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা পোড়খাওয়া নেতা তাপস রায়কে উত্তর কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ আসনে ব্যবহার করছে বিজেপি। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কলকাতার শাসক-গড়ে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
৫. নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা): উত্তরবঙ্গের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে কোচবিহারের প্রভাবশালী নেতা নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি। উদয়ন গুহদের মতো হেভিওয়েটদের চাপে রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
কেন এই ‘জায়েন্ট কিলার’ কৌশল? বিজেপির অন্দরের খবর, শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের যদি তাঁদের নিজেদের কেন্দ্রেই আটকে রাখা যায়, তবে তাঁরা অন্য জেলাগুলোতে প্রচারের সময় কম পাবেন। পাশাপাশি, হেভিওয়েট কোনো মন্ত্রীর হার মানে দলের নৈতিক পরাজয়— এই মনস্তাত্ত্বিক জয়কেই হাতিয়ার করতে চাইছে মোদী-শাহের দল।