দেওয়াল হয়ে দাঁড়াল জনতা! ট্রাম্পের মিসাইল রুখতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে ‘মানবশৃঙ্খল’ ইরানে, দাউদাউ করে জ্বলছে খার্গ দ্বীপ

সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসের মেঘ তত ঘনীভূত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকির পর এখন কার্যত রণক্ষেত্র ইরান। একদিকে যখন আমেরিকার মিসাইল হামলায় জ্বলছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ, অন্যদিকে তখন নিজেদের সম্পদ বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ইলাম শহর থেকে শুরু করে তেহরান—দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে রক্ষা করতে তৈরি করা হয়েছে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মানবশৃঙ্খল’

ট্রাম্পের হুঙ্কার: “সবকিছু ছাই হয়ে যাবে”

নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প যে চরমপত্র দিয়েছেন, তাতে শিউরে উঠছে বিশ্ব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, মাত্র ৪ ঘণ্টার অপারেশনে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি লিখেছেন, “৪৭ বছরের দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান ঘটবে আজ রাতে।”

ঢাল হয়ে দাঁড়াল সাধারণ মানুষ

ট্রাম্পের এই মরণ-হুমকির মুখে ইরানবাসী বেছে নিয়েছেন অহিংস প্রতিরোধের পথ। ইলাম শহরের রাস্তায় দেখা গেল অভূতপূর্ব দৃশ্য—পুরুষ, মহিলা থেকে শুরু করে শিশু, সবাই হাতে হাত ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চারপাশে দেওয়াল তৈরি করেছেন। ইরানের ক্রীড়া উপমন্ত্রী আলিরেজা রহিমি দেশের ক্রীড়াবিদ, শিল্পী ও ছাত্রছাত্রীদের আহ্বান জানিয়েছেন এই ‘মানব ঢাল’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে। তাঁদের বক্তব্য, “এগুলো আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো ধ্বংস হতে দেব না।”

দাউদাউ করে জ্বলছে খার্গ দ্বীপ!

চরম উত্তেজনার মাঝেই খবর পাওয়া গেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং খার্গ দ্বীপে ইতিমধ্যেই হামলা শুরু হয়েছে। ইজরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন। ট্রাম্পের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা মঙ্গলবার রাতেই শেষ হচ্ছে। এরপর কী হবে? সেই আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্বকে।

যুদ্ধ না কি ক্ষমতা বদল?

ট্রাম্পের বার্তার শেষে একটি রহস্যময় ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (Regime Change) হতে চলেছে। সেখানে ‘কম উগ্র’ মানসিকতার মানুষ ক্ষমতায় আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সেই পরিবর্তন কি রক্তের বন্যায় আসবে? নাকি কূটনীতির পথে? উত্তর মিলবে আজ রাতেই।