সুন্দরবনে তৃণমূলের দুর্গে ধস! ২২ জন প্রধানকে নিয়ে শুভেন্দুর হাত ধরলেন ‘তপন’ ঘনিষ্ঠ অনিমেষ, থমথমে দক্ষিণ ২৪ পরগণা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের খেলা তুঙ্গে। তবে মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবন এলাকায় যা ঘটল, তাকে রাজনৈতিক মহলে ‘মিনি ভূমিকম্প’ বলা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সপরিবারে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন গোসাবার দাপুটে নেতা তথা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল।
শুভেন্দুর হাত ধরে ‘মেগা’ জয়েনিং
কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে পদ্ম শিবিরে নাম লেখালেন অনিমেষবাবু। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন গোসাবা ব্লকের ২২ জন প্রধান, উপপ্রধান এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্লক স্তরের নেতৃত্ব। এই গণ-দলবদল সুন্দরবনের রাজনীতির সমীকরণ রাতারাতি বদলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই ভাঙন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবন এলাকায় তৃণমূলের অন্দরে চোরা স্রোত বইছিল। জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা দল ছাড়ায় গোসাবা অঞ্চলে শাসক দলের সংগঠন কার্যত দিশেহারা। শুভেন্দু অধিকারী এই যোগদানকে বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন, “তৃণমূলের প্রতি মানুষের আর আস্থা নেই, তাই দুর্দিন ঘনিয়ে আসছে।” ### বিজেপির হুঙ্কার বনাম তৃণমূলের ‘কুছ পরোয়া নেহি’ বিজেপি শিবিরের দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্নীতির কারণেই এই গণ-ইস্তফা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে এবং টিকিট পাওয়ার আশায় কেউ কেউ দল ছেড়েছেন, এতে সংগঠনের কোনো ক্ষতি হবে না।
সুন্দরবনের রাজনৈতিক মানচিত্র কি বদলে যাবে? গোসাবা ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা একসময় তৃণমূলের নিভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ভোটের মুখে একযোগে এতজন জনপ্রতিনিধির দলবদল শুভেন্দু অধিকারীর ‘দক্ষিণ দখলের’ লড়াইকে একধাপ এগিয়ে দিল। এখন দেখার, ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফল সুন্দরবনের মাটিতে কার আধিপত্য বজায় রাখে।