অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য: তেলের রফতানি কেন্দ্রে মিসাইল বর্ষণ! সরাসরি সংঘাতের পথে বাইডেন-খামেনেই প্রশাসন

বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানি কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে বিধ্বংসী ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হলো। এই নজিরবিহীন হামলার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সরাসরি যুদ্ধের প্রহর গুনছে ইরান ও আমেরিকা। এই সংঘাতের রেশ ভারতসহ গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারের ওপর আছড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হামলার নেপথ্যে কারা? প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কৌশলগত তেল শোধনাগার এবং রফতানি টার্মিনাল লক্ষ্য করে গত রাতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। যদিও এখনও কোনো পক্ষ সরাসরি দায় স্বীকার করেনি, তবে পেন্টাগনের দাবি— এই হামলার পেছনে সরাসরি ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলির হাত রয়েছে। পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইরানের আকাশসীমার কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বাড়ায় উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের কড়া অবস্থান:
-
মার্কিন হুঁশিয়ারি: হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
-
ইরানের পাল্টাহুঁশিয়ারি: তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন বেস এবং তেলের রফতানি পথ (Hormuz Strait) চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে? ভারত তার চাহিদার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই হামলার ফলে:
-
বড় লাফ তেলের দামে: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এখনই ব্যারেলে ৫-৭ ডলার বেড়ে গিয়েছে।
-
মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা: পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যার জেরে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আবেদন জানালেও, রণক্ষেত্রে মোতায়েন ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধজাহাজগুলো ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।