ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কোপ আপনার পকেটে! বাড়তে পারে EMI-এর বোঝা, ঘুম উড়ল মধ্যবিত্তের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, এর আঁচ সরাসরি এসে পড়ছে সাধারণ ভারতীয়দের হেঁশেলে এবং পকেটে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতেই দালাল স্ট্রিটে হাহাকার শুরু হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হতে পারে তাঁদের হোম লোন (Home Loan) বা গৃহঋণের বোঝা।

তেলের বাজারে অগ্নিকাণ্ড, টাকার পতন ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৪৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকা ৩% পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমদানির খরচ বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি অর্থাৎ জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আরবিআই (RBI) ও সুদের হারের কাঁটাছেঁড়া আগামী ৬ থেকে ৮ এপ্রিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির (MPC) বৈঠক হতে চলেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার হয়তো রেপো রেট কমবে, ফলে কমবে লোনের ইএমআই। কিন্তু ইরান যুদ্ধের জেরে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে।

  • বর্তমান রেপো রেট: ৫.২৫%।

  • নতুন চ্যালেঞ্জ: তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি ৪%-এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • সম্ভাব্য ফল: মুদ্রাস্ফীতি রুখতে আরবিআই হয়তো এখনই সুদের হার কমাবে না। বরং আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য চড়া সুদের হার বজায় রাখতে পারে।

আপনার ইএমআই (EMI)-তে এর প্রভাব কী? আপনি যদি হোম লোন নিয়ে থাকেন বা নেওয়ার কথা ভাবেন, তবে এই সংঘাত আপনার পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিতে পারে: ১. বিদ্যমান ঋণগ্রহীতা: আপনার ঋণের সুদের হার কমার যে সম্ভাবনা ছিল, তা এখন অনিশ্চিত। অর্থাৎ, চড়া ইএমআই থেকে এখনই মুক্তি মিলছে না। ২. নতুন ঋণগ্রহীতা: ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি সুদে ঋণ দিতে পারে, ফলে আপনার ঋণের খরচ বেড়ে যাবে। ৩. বাজারের অস্থিরতা: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও এলপিজির খরচ বাড়লে সঞ্চয়ে টান পড়বে।

ইরান যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে আপনার মাসিক বাজেট। যদি তেলের দাম এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হবে। ফলে বৈশ্বিক রণক্ষেত্রের সরাসরি প্রভাব পড়বে আপনার বাড়ির ড্রয়িং রুমে।

এক নজরে মুদ্রাস্ফীতি: ২০২৬-এর জানুয়ারিতে যা ছিল ২.৭৪%, ফেব্রুয়ারিতেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২১%। তেলের জ্বালায় এই গ্রাফ আরও উঁচুতে ওঠার আশঙ্কা প্রবল।