অন্ধকারে মরণফাঁদ! শর্টকাট নিতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি, ৬ শিশুসহ সলিল সমাধি গোটা পরিবারের

এক নিমেষেই আনন্দ বদলে গেল বিষাদে। একটি সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে হাসিঠাট্টা করতে করতে বাড়ি ফিরছিল পরিবারটি। কিন্তু কে জানত, পথের মাঝেই ওত পেতে বসে আছে যমদূত! অন্ধকার রাতে রাস্তার পাশে থাকা একটি গভীর কুয়োয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ল তাঁদের গাড়ি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের মোট ৯ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দিন্ডোরি (Dindori) এলাকায় এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতরা সকলেই দিন্ডোরি তালুকের ইনডোর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে একটি কোচিং ক্লাসের অনুষ্ঠান সেরে সপরিবারে এমইউভি (MUV) গাড়িতে করে ফিরছিলেন তাঁরা। পথে শিবাজি নগর এলাকায় অন্ধকার থাকায় রাস্তার পাশের ২৫ ফুট গভীর কুয়োটি চালক সম্ভবত খেয়াল করতে পারেননি। গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে সটান কুয়োর জলে গিয়ে পড়ে।
উদ্ধারকাজ ও মৃত্যুমিছিল: গাড়িটি পুরোপুরি জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরোনোর সুযোগ পাননি। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ছুটে এলেও রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজ শুরু করতে বেগ পেতে হয়। পরে দুটি হাইড্রো ক্রেন এবং ডুবুরি নামিয়ে গাড়িটি তোলা হলে দেখা যায়, ভেতরে থাকা ৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন শিশু রয়েছে, যাদের বয়স মাত্র ৭ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
তদন্ত ও গাফিলতির প্রশ্ন: এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার পর জনমনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে:
-
রাস্তার ধারে কুয়োটির চারপাশে কোনো মজবুত বেড়া বা সুরক্ষা প্রাচীর ছিল না।
-
শর্টকাট রাস্তা বা সরু পথ দিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকারের কারণে চালক কুয়োটি দেখতে পাননি।
একনজরে ট্র্যাজেডি:
-
মৃতের সংখ্যা: ৯ জন (যার মধ্যে ৬টি শিশু ও ২ জন মহিলা)।
-
ঘটনা স্থল: নাসিকের দিন্ডোরি থানার অন্তর্গত শিবাজি নগর।
-
উদ্ধারকারী: পুলিশ, এনডিআরএফ (NDRF) এবং স্থানীয় ডুবুরি।
বর্তমানে পুলিশ কুয়োর মালিকের বিরুদ্ধে গাফিলতির মামলা রুজু করেছে। একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কীভাবে একটি হাসিখুশি পরিবারকে শেষ করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।