বাংলায় কি ভাঙল ‘ইন্ডিয়া’ জোট? কলকাতায় এসে তৃণমূলকে কড়া তোপ খড়গের, ১৫ বছরের শাসন নিয়ে তুললেন প্রশ্ন!

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই পাল্টে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সমীকরণ। মঙ্গলবার কলকাতায় কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করতে এসে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। একদিকে বিজেপি-র মেরুকরণের রাজনীতি, আর অন্যদিকে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকাল— দুই পক্ষকেই এক সারিতে বসিয়ে খড়গের এই আক্রমণ রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল বোঝাপড়ায় ইতি টানার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী বললেন মল্লিকার্জুন খড়গে?

কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে খড়গে বলেন:

  • উন্নয়নে প্রশ্ন: “১৫ বছর ধরে বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে, তার পরও এখানে কিছু পাল্টায়নি। বাংলার জন্য শিল্প এবং কর্মসংস্থান অত্যন্ত জরুরি।”

  • বিজেপি-র মেরুকরণ: বিজেপি-কেও রেয়াত করেননি তিনি। তাঁর মতে, বিজেপি বাংলার অর্থনীতির কথা না বলে কেবল মেরুকরণের রাজনীতি করে।

মমতার পাল্টা তোপ

খড়গের এই মন্তব্যের ঠিক আগেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুর চড়িয়েছিলেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। নির্বাচনী কমিশন কর্তৃক বাংলার আমলাদের তামিলনাড়ুতে বদলি করা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এত ভাব তামিলনাড়ুর সঙ্গে? ভিতরে ভিতরে নিশ্চয়ই কংগ্রেস আর স্ট্যালিনের (তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী) সঙ্গে বোঝাপড়া আছে!”

বদলে যাওয়া সমীকরণ

মাত্র মাসখানেক আগেও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছিলেন যে বাংলায় তৃণমূলই ক্ষমতায় ফিরছে। এমনকি জাতীয় স্তরে মোদী-বিরোধী লড়াইয়ে খড়গের নাম প্রস্তাব করেছিলেন মমতাই। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা বা রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াইয়ে সেই সুসম্পর্ক এখন তলানিতে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা

১. প্রদেশ কংগ্রেসের চাপ: অধীর চৌধুরী সহ রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব বরাবরই তৃণমূল-বিরোধী অবস্থানের পক্ষে। খড়গের এই মন্তব্য তাঁদের পালে হাওয়া দিল। ২. তৃতীয় শক্তির উত্থান: তৃণমূল ও বিজেপি-র বাইনারি লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেস নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই এই আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিয়েছে।

এডিটরস ইনসাইট: জাতীয় স্তরে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট থাকলেও, বাংলার মাটিতে ঘাসফুল ও হাত শিবিরের এই সংঘাত আসলে ভোটারদের বিভ্রান্তি কাটানোর কৌশল হতে পারে। তবে এই তপ্ত বাক্যবিনিময় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।