২৭ লক্ষ নাম বাদ: সুপ্রিম দরজায় কড়া নাড়ছে জোড়াফুল! কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগে তোলপাড় বাংলা!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ভোটার তালিকা নিয়ে বেনজির সংঘাতে জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম (Doubtful Category) বাদ পড়া নিয়ে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ— কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিজেপির ‘দলদাস’ হিসেবে কাজ করছে।

অভিযোগের তির কমিশনের দিকে: তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার নামে পরিকল্পিতভাবে কয়েক লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার কথায়:

“বিজেপি যখন বুঝতে পারছে যে গণতান্ত্রিক উপায়ে তারা তৃণমূলকে হারাতে পারবে না, তখন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী ভোট ছেঁটে ফেলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে। ২৭ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে না, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”

নন্দীগ্রাম পরিদর্শনে সিইও: এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই পরিস্থিতির আঁচ করতে সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের স্পর্শকাতর এলাকা নন্দীগ্রাম পরিদর্শনে যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দেন। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, নন্দীগ্রামের মতো এলাকাগুলোতে বেছে বেছে শাসক দলের সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই: ইতিমধ্যেই এই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্ক্রুটিনি হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার এই প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে যে, অন্তত ৭ লক্ষ মানুষের আপিল এখনও ঝুলে রয়েছে। শীর্ষ আদালত অবশ্য এখনই কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি, তবে হাইকোর্টের গঠিত কমিটির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলেছে।

তৃণমূলের পাল্টা কৌশল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ২৭ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ‘অগণতান্ত্রিক’ চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে পিটিশন দাখিল করে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ও নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হবে।