“একজনের নাম বাদ গেলে বিজেপিকে বাদ দিন!” মতুয়াদের ভোটাধিকার নিয়ে রণংদেহী মমতা, ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে বড় চাল চাললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার মতুয়া-গড় হিসেবে পরিচিত ঠাকুরনগরে এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপিকে রীতিমতো ‘কামান’ দাগলেন তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সিএএ (CAA) ইস্যুকে হাতিয়ার করে ইভিএম-এ বদলা নেওয়ার ডাক দিলেন মমতা।
নাম বাতিল নিয়ে বিস্ফোরক মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, চক্রান্ত করে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। তিনি বলেন:
“বিজেপি আপনাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নাম করে আসলে নাম কাটার রাজনীতি করছে। মনে রাখবেন, একজনেরও নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে তার বদলা নিতে হবে ইভিএমে। বিজেপিকে এমন ভোট দিন যাতে ওরা বাংলা ছাড়তে বাধ্য হয়।”
ইভিএম-এ বদলা নেওয়ার ডাক মমতা এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, রাস্তা বা মিছিলে প্রতিবাদ নয়, আসল লড়াই হবে বুথের ভেতরে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “ভোটের দিন কোনো ভয় পাবেন না। যে নাম বাতিলের চক্রান্ত ওরা করছে, তার মোক্ষম জবাব দিন বোতাম টিপে।”
মতুয়া আবেগে শান বড়মা বীণাপাণি দেবীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা দাবি করেন, মতুয়াদের উন্নয়নে যা কাজ হয়েছে তা তৃণমূলের আমলেই হয়েছে। বিজেপি শুধুমাত্র ভোটের সময় ‘মতুয়া-প্রেম’ দেখায় বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া মমতার এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যাওয়ার ভয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার কাজ নির্বাচন কমিশনের, কেন্দ্রের নয়।”
কেন এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ? উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার মতুয়া অধ্যুষিত আসনগুলি গত কয়েক বছরে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই জমি পুনরুদ্ধার করতে মরণ-বাঁচন লড়াই শুরু করেছেন মমতা। ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময় নাম বাতিলের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে তিনি মতুয়াদের এককাট্টা করার কৌশল নিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।