“রাত ৮টা বাজলেই পাকিস্তান অন্ধকার”-দেশ জুড়ে হবে ‘ব্ল্যাকআউট’, জেনেনিন কেন?

একদিকে বিশ্বজুড়ে চলা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ, আর অন্যদিকে দেশের শাসকদের চরম ব্যর্থতা— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যে, আজ ৭ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার।

পাকিস্তানের ‘নাইট লাইফ’ এখন অতীত

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তান সরকার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেছে:

  • বাজার ও মল বন্ধ: আজ ৭ এপ্রিল থেকে রাত ৮টার মধ্যে দেশের বেশিরভাগ এলাকার বাজার ও শপিং মল বন্ধ করতে হবে। সিন্ধু প্রদেশ বাদে পঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে এই নিয়ম কড়াভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

  • বিয়ের অনুষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ: রাত ১০টার পর কোনও রেস্তোরাঁ বা বিয়ের হল খোলা রাখা যাবে না। এমনকি বাড়ির ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও রাত ১০টার পর আলো জ্বালিয়ে রাখার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

  • ব্যতিক্রম: কেবল মাত্র ওষুধের দোকান ও ডিসপেনসারিগুলি এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে।

পেট্রোলের দামে আগুন: ‘গাড়িতে সোনা ভরছি’

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে পাকিস্তানে তেলের দাম সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছে: ১. সর্বোচ্চ দাম: কয়েক দিন আগেই পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি আকাশছোঁয়া ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপিতে (PKR) পৌঁছেছিল। ডিজেলের দাম ছাড়িয়েছিল ৫২০ টাকা। ২. লোকদেখানো স্বস্তি: ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়ে সরকার তেলের ওপর লেভি (Levy) কিছুটা কমিয়ে পেট্রোলের দাম ৩৭৮ টাকা করেছে। তবে এই ‘ছাড়’ সাধারণ মানুষের কাছে বড়সড় উপহাসের মতোই ঠেকছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে পড়া ক্ষোভ

পাক নাগরিকদের ধৈর্যের বাঁধ এখন ভাঙার পথে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মানুষ খোলাখুলিভাবে সরকারকে দুষছেন।

  • একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “১০০ টাকার পেট্রোলে এখন একটা বাটিও ভরে না। শাহবাজ সরকার আমাদের ভিক্ষুক বানিয়ে ছাড়বে!” * অন্য একজন কটাক্ষ করে বলেছেন, “যুদ্ধ চলছে ইরানে, আর রক্তক্ষরণ হচ্ছে আমাদের পকেটে।”

কেন এই দশা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির সিংহভাগই আমদানি করে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ফলে হরমোজ প্রণালীতে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের কাছে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার তলানিতে থাকায় তারা ভর্তুকি দিতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।