‘রাহুল মরে যাওয়ার পর সব মিথ্যে কথা!’, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দুই মেগা সিরিয়াল ছাড়লেন রেশমি সেন

মঙ্গলবার সকাল থেকেই টলিপাড়ায় থমথমে পরিবেশ। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিচার চেয়ে স্টুডিওপাড়ায় ক্যামেরা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। ঠিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বিস্ফোরণ ঘটালেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রেশমি সেন। সাফ জানিয়ে দিলেন, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কোনো কাজই তিনি আর করবেন না। ইতিমতেই তিনি জনপ্রিয় দুই ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ এবং ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেশমি জানান, গত দেড় বছর ধরে তিনি এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমান সিরিয়ালটিতে তিনি খোদ রাহুলের শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। রাহুলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তাঁর সঙ্গে শুটিং করেছিলেন রেশমি। তাঁর অভিযোগ, রাহুলের মৃত্যুর পর যে ধরনের বয়ান দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত ‘পরস্পরবিরোধী’। তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে রাহুল নিজেই জলে নেমে ড্রোন শট দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা যারা এত বছর কাজ করছি তারা জানি, ড্রোন বা জিমি শটের জন্য আলাদা টেকনিশিয়ান লাগে। চিত্রনাট্যের একটা লাইন এদিক-ওদিক করা যায় না, সেখানে রাহুল হঠাৎ নিজে জলে নেমে গেল— এই যুক্তি মেনে নেওয়া অসম্ভব।”

রেশমি আরও জানান, তিনি কোনো চুক্তিবদ্ধ বা কনট্রাক্ট থাকা অভিনেত্রী নন, বরং প্রতিদিনের কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পেতেন। তাই আলাদা করে কোনো ইস্তফাপত্র দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকেই তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। অভিনেত্রী সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, “বর্তমানে আমার হাতে কোনো কাজ নেই, তাতে আমার কোনো অসুবিধা নেই। আমার কাছে আগে বিচার, তারপর কাজ। এই নানা মতামতের ভিড়ে সত্যিটা বেরিয়ে আসা দরকার, আর সেই প্রতিবাদেই আমি এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”