“বালুর মতো এত ভাল কাজ কেউ করেনি”-জ্যোতিপ্রিয়ের সমর্থনে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা

দক্ষিণবঙ্গের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে আজ ঝটিকা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সবথেকে বেশি নজর ছিল হাবড়া কেন্দ্রের দিকে। কারণ, রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল খেটে আসা এবং মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (বালু) ফের এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার হাবড়ার বাণীপুর বি আর অম্বেডকর মাঠের জনসভা থেকে বালুর ওপর অগাধ আস্থা প্রকাশ করে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতার ঢাল: কেন জ্যোতিপ্রিয়কে ‘নির্দোষ’ বললেন তিনি?

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে চলা ‘অপপ্রচার’ ও ‘কুৎসা’র বিরুদ্ধে এদিন গর্জে ওঠেন মমতা। তাঁর সাফ দাবি:

  • চুরি ধরেছিলেন বালু: মমতার কথায়, “সিপিএম আমলের দেড় লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ড ধরেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। আগে রেশনের মাল পাচার হতো, বালু এসে সেই চুরি বন্ধ করেছে।”

  • ডিজিটাল রেশন কার্ডের সাফল্য: মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল রেশন কার্ড করার মতো কঠিন কাজ সফলভাবে করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। তাঁর সরকারে বালুর মতো ভালো কাজ কেউ করেনি।

  • রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: মমতার অভিযোগ, “ওকে হিংসে করে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কোনও প্রমাণ পায়নি। অন্যায়ভাবে ওকে আটকানো হয়েছিল।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জ্যোতিপ্রিয়ের প্রত্যাবর্তন

  • গ্রেফতারি ও অপসারণ: ২০২৩ সালের অক্টোবরে রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন তৎকালিন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়। ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

  • জামিন ও গুরুত্ব বৃদ্ধি: ২০২৫ সালের শুরুতে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই দলে বালুর গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে। অনেকের ধারণা ছিল হাবড়ায় প্রার্থী বদল হতে পারে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো সেনাপতির ওপরেই ভরসা রাখলেন।

বিরোধীদের নিশানা

এদিন মমতা ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “কারও কথা শুনে বা কুৎসা শুনে ভোট দেবেন না।” জ্যোতিপ্রিয়কে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রকারান্তরে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।

হাবড়ার এই লড়াই এখন কেবল উন্নয়নের নয়, বরং দুর্নীতির অভিযোগ বনাম মুখ্যমন্ত্রীর আস্থার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, ৯ এপ্রিলের ব্যালট বাক্সে হাবড়াবাসী কার দিকে রায় দেয়।