বঙ্গযুদ্ধে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! ম্যাট্রিজের সমীক্ষায় কাঁপছে ঘাসফুল, সরকার গড়ার দোরগোড়ায় বিজেপি?

এপ্রিলের তপ্ত রোদে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সেই ‘বিপুল জয়’ কি এবারও দেখা যাবে, নাকি বাংলার মসনদে এবার ঘটবে ঐতিহাসিক পালাবদল? নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত ‘ম্যাট্রিজ’-এর মেগা জনমত সমীক্ষা (Opinion Poll) ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, এবার আর একতরফা লড়াই নয়, বরং ১৪৮-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে গিয়ে রীতিমতো স্নায়ুর চাপে পড়তে হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত-শুভেন্দু জুটিকে।

সমীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখাতে পারছে না। ম্যাট্রিজের রিপোর্ট বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন (৪৩ শতাংশ ভোট)। অন্যদিকে, বিজেপি তাঁদের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন (৪১ শতাংশ ভোট) নিয়ে। বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ৮ থেকে ১৬টি আসন। এই পরিসংখ্যান পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, এক ইঞ্চি জমিও কেউ কাউকে ছাড়বে না।

এই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নেপথ্যে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ‘সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক’ মেরুকরণ। তৃণমূল ত্যাগী হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘মিম’ (AIMIM)-এর জোট শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই জোট তৃণমূলের ভোট কাটলে সরাসরি লাভবান হবে বিজেপি। ২০২১ সালে ৪৮ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতলেও, ২০২৬-এর লড়াই হতে চলেছে একেবারে ‘কাঁটে-কি-টক্কর’। বাংলার মানুষ ৪ মে কার ভাগ্য নির্ধারণ করে, এখন সেটাই দেখার।