“তোর প্রাণ যেতে পারত কনী!”—রাহুলের মৃত্যুতে টলিউডের অন্ধকার দিক ফাঁস করলেন ভাস্বর

তালসারির সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু টলিউডের অন্দরে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এই শোকের আবহেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে শ্যুটিং সেটে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিরাপত্তার অভাবের প্রশ্নটি। রাহুল কেন জলের গভীরে গেলেন বা কেন সেখানে পর্যাপ্ত উদ্ধারকারী দল ছিল না—তা নিয়ে হাজারো বিতর্কের মাঝে এবার বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। ২০০৫ সালের এক হাড়হিম করা ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি দেখিয়েছেন, টলিউডে শিল্পীদের জীবনের নিরাপত্তা কতটা অবহেলিত।
ভাস্বর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ২০০৫ সালে সুন্দরবনে একটি শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা। সেই দলে ছিলেন কুণাল মিত্র, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়া কারফা এবং দেবদূত ঘোষ। ভাস্বরের বয়ান অনুযায়ী, মাঝনদীতে ভয়াবহ ঝড়ের মধ্যে পরিচালক জোর করে কনীনিকাকে একটি নৌকায় নামিয়ে দেন শট দেওয়ার জন্য। কনীনিকার মা কান্নাকাটি করলেও বা বাকিরা প্রতিবাদ করলেও পরিচালক কর্ণপাত করেননি। ভাস্বরের দাবি, সেদিন কনীনিকার প্রাণ যেতে পারত। শুধু তাই নয়, নদীপাড়ে শ্যুটিংয়ের পর স্থানীয়রা তাঁদের জানান যে, সেখানে ‘কামট’ (এক ধরণের হাঙর) থাকে, যা প্রাণঘাতী হতে পারত।
এই পোস্টে মন্তব্য করে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমি ভাবছিলাম জানিস, সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম।” ভাস্বর পাল্টা আক্ষেপ করে লিখেছেন যে, তাঁরা সেদিন রুখে দাঁড়াতে পারেননি বলেই আজ রাহুলের মতো একজন প্রতিভাকে প্রাণ দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদ বুঝিয়ে দিতে হলো। ইন্ডাস্ট্রির বহু শিল্পীই এখন সরব হয়েছেন এই বিষয়ে। তাঁদের অভিযোগ, আউটডোর শ্যুটিংয়ে কোনো চিকিৎসক বা অ্যাম্বুল্যান্স থাকে না, ফলে বিপদের সময় কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন তাঁরা।
রাহুলের চলে যাওয়া কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং টলিউডের পরিকাঠামোর দিকে তোলা এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, যদি সময়মতো ইউনিয়ন বা শিল্পীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতেন, তবে হয়তো রাহুলকে এভাবে অকালে চলে যেতে হতো না। ভাস্বরের এই পোস্ট এখন টলিউডের ‘গ্ল্যামার’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অব্যবস্থার এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।