ভোটের বাজারে হঠাত্ চা-ওয়ালি সাজলেন বিদায়ী বিধায়ক! সোনারপুরে ফিরদৌসী বেগমের কাণ্ড দেখে তাজ্জব ভোটার

ভোট যত এগোচ্ছে, ততই অভিনব হচ্ছে প্রচারের ধরণ। কেউ সেলুনে গিয়ে দাড়ি কাটছেন, কেউ বা গৃহিণীদের সঙ্গে রান্নাঘরে ঢুকে খুন্তি নাড়ছেন। তবে সোমবার বিকেলে সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসী বেগমের প্রচার সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল। খোদ প্রার্থীকে চায়ের দোকানে ঢুকে ‘চা-ওয়ালি’র ভূমিকায় দেখে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।
চায়ের দোকানে আচমকা এন্ট্রি: সোমবার বিকেলে গড়িয়া বোড়ালের রক্ষিতের মোড় এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিদায়ী বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম। আচমকাই তিনি ঢুকে পড়েন রাস্তার ধারের একটি চায়ের দোকানে। দোকানের মালিক থেকে শুরু করে সেখানে বসে থাকা খদ্দেররা প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও, মুহূর্তেই এলাকা ভরে ওঠে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে।
পাকা হাতে চা ও জনসংযোগ: শুধু দোকানে ঢোকাই নয়, একেবারে কেটলি হাতে নিয়ে উনুন সামলাতে বসে পড়েন প্রার্থী। জল ফোটানো থেকে শুরু করে দুধ-চিনি মিশিয়ে একেবারে পাকা হাতে লিকার চা তৈরি করেন ফিরদৌসী। এরপর সেই গরম চা নিজেই কাপে ঢেলে পরিবেশন করেন উপস্থিত ভোটার ও কর্মীদের মধ্যে। প্রার্থীর হাতে বানানো গরম চা হাতে পেয়ে খুশিতে ডগমগ স্থানীয়রা।
কেন এই কৌশল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিছক বক্তৃতা বা মিছিলের চেয়ে এই ধরণের ‘পার্সোনাল টাচ’ সাধারণ মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলে। ফিরদৌসী বেগমের কথায়, “চায়ের দোকান বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে বসেই রাজনীতি থেকে সমাজ—সব আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না।”
গ্রাউন্ড কানেকশনে জোর: সোনারপুর উত্তরের বাসিন্দাদের মন জয় করতে ফিরদৌসী এখন মরিয়া। সাধারণ মানুষের ঘরের লোক হয়ে ওঠার এই কৌশল গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে তৃণমূল শিবিরের একাংশ।