“দেওয়ালে পদ্ম থাকলেই বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার!” তৃণমূল নেত্রীর চরম হুঁশিয়ারিতে তোলপাড় মেমারি, বিতর্কের কেন্দ্রে গীতা দাস!

ভোটের আবহে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া নিয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেত্রী। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল মহিলা সভানেত্রী গীতা দাসের একটি মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরাসরি সাধারণ মানুষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, যাঁদের বাড়ির দেওয়ালে বিজেপির নির্বাচনী প্রতীক ‘পদ্ম’ আঁকা আছে, তাঁরা তা না মুছলে বন্ধ করে দেওয়া হবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’।

নেত্রীর বিতর্কিত বয়ান: মেমারির এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গীতা দাস সাফ জানান, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে হলে আনুগত্য দেখাতে হবে। তাঁর কথায়, “যাঁদের বাড়ির দেওয়ালে পদ্ম আঁকা আছে, তাঁরা যদি তা অবিলম্বে মুছে না ফেলেন, তবে তাঁদের পরিবারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষঙ্গ: মজার বিষয় হলো, গীতা দাস তাঁর এই হুমকির সঙ্গে স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রথাকেও যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ইঙ্গিত, যারা ঘরের দেওয়ালে বিরোধী দলের চিহ্ন রাখবে, তাঁরা আদতে সামাজিক অনুশাসন লঙ্ঘন করছে এবং তার শাস্তি হিসেবেই এই অর্থনৈতিক পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি।

বিরোধীদের তোপ: বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সাধারণ মানুষের করের টাকায় চলে, কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তৃণমূল সরকারি প্রকল্পকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।” প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

সম্পাদকের নোট: এর আগেও বিভিন্ন সভায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের কথা বলে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন শাসক দলের একাধিক নেতা-নেত্রী। মেমারির এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।