হাসিনা জমানার পর নতুন অধ্যায়! ঢাকার সচিবালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রণয় বর্মা, মোদী সরকারের বড় বার্তা!

শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত। ৫ অগস্টের পটপরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা। সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে ক্যাবিনেট ডিভিশন কার্যালয়ে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎ দুই প্রতিবেশী দেশের শীতল হতে থাকা সম্পর্ক মেরামতির পথে এক বড় পদক্ষেপ।
বৈঠকের নির্যাস: গুরুত্ব পেল জনকল্যাণ ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই বৈঠককে ‘ইতিবাচক ও দূরদর্শী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে:
-
দুই দেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার বজায় রেখে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
-
ভারত সরকার বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
-
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দিয়েছেন প্রণয় বর্মা।
পটভূমি ও তাৎপর্য: ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার ভারত আশ্রয় এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা ইস্যুতে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই মোদী সরকার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার প্রয়াণে খোদ এস জয়শঙ্কর শোকবার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা সম্পর্কের বরফ গলার প্রথম ইঙ্গিত ছিল।
সামনে বিদেশমন্ত্রীর দিল্লি সফর: এই বৈঠকের ঠিক পরেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে আসছেন। সেখানে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তার আগেই তারেক-প্রণয় সাক্ষাৎ নিশ্চিতভাবেই আলোচনার পথ প্রশস্ত করল।
এক নজরে উপস্থিত ছিলেন যারা: বৈঠকে প্রণয় বর্মা ও তারেক রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান, উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধে।