“সচিবালয়ে রাজনীতি ঢুকেছে!” মুখ্যসচিবকে চরম ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, মালদহ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

পশ্চিমবঙ্গের আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মালদহের কালিয়াচকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও হেনস্থার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষোভ উগড়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তীব্র তিরস্কার করে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কড়া দাওয়াই:

  • ফোন না ধরার মাসুল: ঘটনার দিন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু তিনি সেই ফোন ধরেননি। এই বিষয়টিকে ‘প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘আপনারা কি প্রধান বিচারপতির ফোনও ধরতে পারেন না?’’

  • রাজনীতিকরণ: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় ও সরকারি দফতরগুলোতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে, যা আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করছে।

  • এনআইএ তদন্ত: কালিয়াচকের ঘটনায় ধৃত ২৬ জনকে এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়াটি একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাল্টাতোপ: এদিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের (EC) অধীনে।

  • কমিশনকে দায়ী: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, ‘‘বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কমিশনই দায়ী। মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি এখন আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না, কারণ আমার কাছ থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’’

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মালদহে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে টানা ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়। বিচারকদের সুরক্ষা দিতে রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে এর আগেই তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ এবং আমলাদের প্রতি কঠোর বার্তা রাজ্যের নির্বাচনী আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। এনআইএ-র তদন্তে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’-দের নাম সামনে আসে কি না, নজর এখন সেদিকেই।