“কথায় কথায় চাকরিতে ইস্তফা”-জেনেনিন কেন এত বেপরোয়া আজকের ‘Gen-G’?

ডেস্কে কাজের পাহাড়, বসের কড়া মেজাজ আর মাস শেষে মোটা মাইনের হাতছানি—এক সময় মধ্যবিত্ত বাঙালির এটাই ছিল পরম প্রাপ্তি। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। বর্তমানের ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মের কাছে কেরিয়ারের সংজ্ঞাটাই বদলে গিয়েছে। তাদের কাছে চাকরি মানে স্রেফ হাড়ভাঙা খাটুনি নয়, বরং নিজের আত্মসম্মান আর মানসিক শান্তিই সবার আগে।

ইস্তফা এখন হাতের মুঠোয়!

আজকের তরুণ-তরুণীরা কর্মক্ষেত্রে সামান্য মনোমালিন্য বা অসম্মান হলেই পকেটে রাখা ইস্তফাপত্র ধরিয়ে দিতে পিছপা হচ্ছেন না। অবাক করার বিষয় হলো, চাকরি ছাড়ার পর তাদের চোখেমুখে কোনও দুশ্চিন্তার লেশমাত্র নেই। বড় কর্পোরেট সংস্থার তকমা বা ‘ম্যানেজার কালচার’-এর শৃঙ্খলে তারা আর ধরা দিতে নারাজ।

মানসিক শান্তিই পরম সম্পদ

সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, এই প্রজন্মের কাছে ‘মেন্টাল পিস’ বা মানসিক শান্তি চড়া বেতনের চেয়েও বেশি দামী। অফিসের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দেওয়াকে তারা একপ্রকার ‘দাসত্ব’ বলে মনে করে। তাদের জীবনদর্শন খুব স্পষ্ট:

  • ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স: জীবনটা কেবল কাজের জন্য নয়, উপভোগের জন্য।

  • সৃজনশীল স্বাধীনতা: গতে বাঁধা ৯টা-৫টার ছক থেকে বেরিয়ে ফ্রিল্যান্সিং বা স্টার্ট-আপে বেশি স্বচ্ছন্দ।

  • অ্যান্টি-বস মেন্টালিটি: অহেতুক খবরদারি বা বিষাক্ত কর্মপরিবেশ সহ্য করার বদলে হাসিমুখে পদত্যাগ।

পেশাদারিত্ব নাকি বিদ্রোহ?

এই বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে বিতর্কও কম নেই। প্রবীণ প্রজন্মের দাবি, আজকের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ধৈর্য ও সহনশীলতা কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে বাধা হতে পারে। তবে জেন-জি-র সাফ কথা, “যেখানে কাজের পরিবেশ বিষাক্ত, সেখানে সময় নষ্ট করা বোকামি।” তারা স্রেফ ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়াতে নয়, বরং প্যাশন বা শখ পূরণ করতে বেশি আগ্রহী।

বদল আসছে কর্পোরেট দুনিয়ায়

তরুণ প্রজন্মের এই ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব আসলে প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন বড় বড় সংস্থাগুলোকে কর্মী ধরে রাখতে হুকুম দেওয়ার বদলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দিতে হচ্ছে। গদি ছাড়ার এই অকুতোভয় মানসিকতা আদতে এক নতুন যুগের কর্মবিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।