“নিজেদের ভগবান ভাববেন না!”-বাংলার মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ মহাপরিচালককে (DGP) রীতিমতো তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “নিজেদের এতটাও উঁচুতে রাখবেন না যে প্রধান বিচারপতিও আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।”
প্রধান বিচারপতির ফোনও পাননি মুখ্যসচিব!
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। তিনি যুক্তি দেন যে, ঘটনার সময় তিনি দিল্লিতে একটি বৈঠকে ছিলেন এবং কলকাতা থেকে কোনও ফোন পাননি। কিন্তু এই যুক্তিতে চিঁড়ে ভেজেনি। আদালত ক্ষোভের সঙ্গে জানায়, যখন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিচারকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, তখন প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না—এটা আমলাতন্ত্রের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। বিচারপতি বাগচী কড়া সুরে বলেন, “নিজেদের একটু নিচে নামান।”
লিখিত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ
ঘটনাটি কতখানি ভয়াবহ ছিল তা মনে করিয়ে দিয়ে আদালত জানায়:
-
বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বিচারকরা ঘেরাও ছিলেন।
-
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় খোদ প্রধান বিচারপতিকে (CJI) গভীর রাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
-
সিভিল প্রশাসন ও পুলিশের চরম ব্যর্থতার কারণে বিচারকদের বিশেষ ক্ষমতা দিতে বাধ্য হয়েছে আদালত।
এই চরম গাফিলতির জন্য মুখ্যসচিব ও ডিজিপি-কে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
“উস্কানি কার? শেষ দেখে ছাড়ব”
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, হাজার হাজার মানুষের এই জমায়েত কোনওভাবেই ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যদিও রাজ্য সরকার হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, শাহজাহান কাদরি ও মাফতুল ইসলাম নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে এতেও সন্তুষ্ট নয় আদালত। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, “কারা এই ঘটনার পেছনে উস্কানি দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করুন। আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব।”
আপাতত কোনও কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলেও, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ বা সাধারণ ও জরুরি প্রয়োজনে শীর্ষ কর্তাদের নাগাল পাওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন ঝুলে রইল।