মানসিক ভারসাম্য না কি রাজনৈতিক স্টান্ট? মমতার ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বে সুকান্তর পাল্টা তোপ

মালদহের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ড্রোন-ষড়যন্ত্র’ এবং ‘প্রাণনাশের আশঙ্কা’র পালটা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবিকে কার্যত হেসেই উড়িয়ে দিলেন তিনি। সুকান্তর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে আর নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না।
সুকান্তর শ্লেষাত্মক মন্তব্য: সোমবার বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখন যা বলছেন, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। আসলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তিনি এখন অবান্তর কথা বলছেন। তিনি সম্ভবত পরিবেশের সঙ্গে আর খাপ খাওয়াতে পারছেন না।” সুকান্তর মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে দেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ষড়যন্ত্রের’ পুরনো তাস খেলছেন।
ড্রোন বিতর্ক নিয়ে পাল্টা: মালদহের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর মাথার ওপর ড্রোন ওড়া নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এখন ডিজিটাল যুগ। অনেক সময় ভিডিও গ্রাফির জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তাতে ভয় পাওয়ার কী আছে? নিজের রাজ্যের পুলিশ কী করছিল? যদি নিরাপত্তা চ্যুতি হয়ে থাকে, তবে তার দায় তো রাজ্যেরই। আসলে সহানুভূতি কুড়োতেই এই ধরনের নাটক সাজানো হচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ভোটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমাকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র’ দাবির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। তৃণমূল যেখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাঠগড়ায় তুলছে, সেখানে সুকান্ত মজুমদারের এই ‘পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা’র মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
বিজেপির দাবি, মানুষ এখন উন্নয়ন চায়, ‘ভয়ের গল্প’ নয়। জগদ্দল থেকে মালদহ— সর্বত্রই এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি বাগযুদ্ধে সরগরম বাংলা। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা বলবে ২০২৬-এর ব্যালট বক্স।