“মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারেই ১২৭০ কোটির সরকারি কাজ!”-CBI-তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে প্রবল ভূমিকম্প! অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর (Pema Khandu) পরিবারের বিরুদ্ধে ১,২৭০ কোটি টাকার বিশাল দুর্নীতির অভিযোগে এবার সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের এই কড়া নির্দেশে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খাণ্ডু সরকার।
অভিযোগের পাহাড়: ঘরের লোকই পেলেন সব কাজ?
‘সেভ মন রিজিয়ন ফেডারেশন’ এবং ‘ভলান্টারি অরুণাচল সেনা’ নামক দুটি সংগঠনের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত এক দশকে (২০১৫ থেকে ২০২৫) অরুণাচল প্রদেশের জনপথ ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ম বহির্ভূতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের দেওয়া হয়েছে।
-
কারা পেলেন কাজ? অভিযোগের তির মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী, মা এবং ভাইপোর মালিকানাধীন সংস্থাগুলির দিকে।
-
টাকার অঙ্ক: প্রায় ১,২৬০ থেকে ১,২৭০ কোটি টাকার সরকারি ওয়ার্ক অর্ডার এই সংস্থাগুলির হাতে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া দাওয়াই
বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি অর্থে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। আদালতের নির্দেশিকাগুলি হলো:
-
প্রাথমিক তদন্ত: আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে CBI-কে প্রাথমিক তদন্ত (PE) শুরু করতে হবে।
-
সময়সীমা: ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের সমস্ত চুক্তি খুঁটিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে এর বাইরের লেনদেনও খতিয়ে দেখা যাবে।
-
রিপোর্ট পেশ: ১৬ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআই-কে।
প্রশান্ত ভূষণের সওয়াল ও সরকারের সাফাই
মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে সওয়াল করেন যে, এত বড় অঙ্কের কাজ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে আসলে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির চূড়ান্ত উদাহরণ তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অরুণাচল প্রদেশ সরকার এই অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, সমস্ত টেন্ডার আইনি প্রক্রিয়া মেনেই দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের আঁচ কি দিল্লিতেও?
বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে খাণ্ডু সরকারের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ জাতীয় স্তরেও আলোড়ন ফেলেছে। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সিবিআই-এর হাতে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি তুলে দিতে হবে। ১৬ সপ্তাহ পর সিবিআই-এর রিপোর্টে কী উঠে আসে, এখন তার ওপরই নির্ভর করছে পেমা খাণ্ডুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।