পিনাকাকে টেক্কা দেবে ‘সূর্যাস্ত্র’! ৩০০ কিমি দূর থেকেই শত্রু ঘাঁটি ছারখার করবে ভারতের নতুন রকেট সিস্টেম!

ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে যুক্ত হলো এক নতুন ‘ব্রহ্মাসস্ত্র’। দেশীয় পিনাকা রকেট সিস্টেমের চেয়েও অধিক পাল্লার এবং ঘাতক ‘সূর্যাস্ত্র’ (Suryashtra) রকেট সিস্টেমের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হলো। ইজরায়েলের এলবিট সিস্টেমস এবং ভারতের নিবে লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই সিস্টেমটি এখন ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীর তুরুপের তাস।

কেন এটি ‘কিলার’ রকেট সিস্টেম?

সূর্যাস্ত্রের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর অবিশ্বাস্য নির্ভুলতা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সিইপি (CEP) ৫ মিটারেরও কম। অর্থাৎ, ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যভেদের সময় এটি মাত্র ৫ মিটারের ব্যবধানে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। রকেট আর্টিলারিতে এই স্তরের নির্ভুলতা সাধারণত দেখা যায় না, যা একে গাইডেড মিসাইলের সমতুল্য করে তুলেছে।

পিনাকার চেয়েও কেন শক্তিশালী?

বর্তমানে ভারতের দেশীয় পিনাকা সিস্টেম একটি নির্দিষ্ট ক্যালিবারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সূর্যাস্ত্র অনেক বেশি নমনীয়:

  • মাল্টি-ক্যালিবর সুবিধা: একটিমাত্র লঞ্চার থেকেই ১২২ মিমি, ৩০৬ মিমি (এক্সট্রা) এবং ৩৭০ মিমি (প্রেডেটর হক) রকেট নিক্ষেপ করা সম্ভব।

  • ৩০০ কিমি পাল্লা: যেখানে পিনাকার পাল্লা বর্তমানে সীমিত, সেখানে সূর্যাস্ত্র ৩০০ কিলোমিটার গভীরে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

  • ড্রোন লঞ্চার: এই সিস্টেম থেকে ‘স্কাইস্ট্রাইকার’-এর মতো ড্রোনও উৎক্ষেপণ করা যায়, যা ১০০ কিমি দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে।

২৯৩ কোটির চুক্তি ও অন্তর্ভুক্তির প্রস্তুতি:

ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে ২৯৩ কোটি টাকার এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দুটি লঞ্চার এবং একটি লোডিং যান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও এর শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় পিনাকা-ইআর (Pinaka-ER) সম্পূর্ণরূপে তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সূর্যাস্ত্রই হবে ভারতের দূরপাল্লার আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার। তবে এর বিধ্বংসী ক্ষমতা দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় সেনার সেবায় নিয়োজিত থাকবে।