“WE GOT HIM!”—শত্রুপক্ষ ঘিরে ফেলার আগেই মার্কিন অফিসারকে উদ্ধার, ট্রাম্পের মুখে হাড়হিম করা অভিযানের গল্প

যেন কোনো হলিউড থ্রিলারকেও হার মানাবে! গত ৪ এপ্রিল ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড (উইপন সিস্টেম অফিসার)। অবশেষে ৪৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস এক অভিযানের পর ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল থেকে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করল মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজয়ের সুরে ঘোষণা করেছেন— “WE GOT HIM!” (আমরা তাঁকে পেয়েছি!)।
কোথায় লুকিয়ে ছিলেন ওই ক্রু? বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্যারাশুটে করে নামার সময় ওই উচ্চপদস্থ কর্নেল ইরানের এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি প্রায় ৭,০০০ ফুট উঁচু একটি পাহাড়ের খাঁজে (Mountain Crevice) আশ্রয় নেন। মাত্র একটি পিস্তল এবং সামান্য কিছু জীবনদায়ী সরঞ্জাম নিয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে টানা দুদিন ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) নজর এড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।
যেভাবে চলল উদ্ধার অভিযান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এই উদ্ধার কাজের জন্য একটি অভিনব ‘ছলনার কৌশল’ (Deception Campaign) নিয়েছিল। তারা ইরানি গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করতে ছড়িয়ে দিয়েছিল যে, পাইলটকে আগেই উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন কমান্ডোরা শত শত সেনা এবং কয়েক ডজন ঘাতক যুদ্ধবিমান নিয়ে ইরানের গভীরে প্রবেশ করে।
-
গোয়েন্দা নজরদারি: নিখোঁজ ওই অফিসারের কাছে থাকা একটি গোপন ‘ইমার্জেন্সি বিকন’ বা সিগন্যাল ট্র্যাক করে তাঁর নিখুঁত অবস্থান খুঁজে পায় আমেরিকা।
-
তীব্র গোলাগুলি: উদ্ধারের সময় ইরানি সেনাদের সাথে মার্কিন কমান্ডোদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ থেকে সমানে বোমাবর্ষণ করতে থাকে যাতে ইরানি কনভয়গুলো ওই পাহাড়ের ধারেকাছে পৌঁছাতে না পারে।
-
দিনের আলোয় উদ্ধার: সাধারণত এধরণের অভিযান রাতে হলেও, এবার প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে দিনের আলোতেই ওই কর্নেলকে হেলিকপ্টারে তুলে নেয় কমান্ডোরা।
অপারেশনের চ্যালেঞ্জ: উদ্ধারকাজটি এতটাই জটিল ছিল যে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আমেরিকার একটি বিশাল পরিবহন বিমান সেখানেই ধ্বংস করতে হয়, যাতে তা শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে। বর্তমানে ওই উদ্ধারকৃত অফিসারকে কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প এই অভিযানকে “আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম সাহসী অপারেশন” বলে অভিহিত করেছেন।