আমেরিকার এক মিসাইলেই ছাই হবে ইরানের গর্ব? ‘স্টেলথ’ ক্ষেপণাস্ত্রের দাপটে মহাপ্রলয়ের মুখে মধ্যপ্রাচ্য!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ এবার এক ভয়ংকর বাঁক নিল। তেহরানের ‘সারপ্রাইজ’ দেওয়ার হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পালটা চাল দিল পেন্টাগন। জানা গেছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যুহ গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকা তাদের ভাণ্ডারের সবচেয়ে মারাত্মক ও ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন শুরু করেছে। যার মধ্যে সবার উপরে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘টমহক’ (Tomahawk) এবং রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম ‘JASSM-ER’ স্টেলথ মিসাইল।
কেন এই মিসাইলগুলো এত ভয়ংকর?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন করার অর্থ হলো আমেরিকা এখন ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
-
টমহক (Tomahawk Block V): এটি একটি সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ মিসাইল। এটি নিচু উচ্চতায় উড়ে গিয়ে রাডারের নজর এড়িয়ে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে পারে। কয়েক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এটি ইরানের যেকোনো সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
-
JASSM-ER (Joint Air-to-Surface Standoff Missile): এটি আমেরিকার সবচেয়ে আধুনিক ‘স্টেলথ’ মিসাইল। এর সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো, এটি ইরানের আকাশসীমায় না ঢুকেই বহু দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।
পেন্টাগনের রণকৌশল: বুমবার্গ-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা তাদের প্যাসিফিক রিজার্ভ থেকে কয়েকশ ‘JASSM-ER’ মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরিয়ে এনেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল খনি এবং পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই মিসাইলগুলো ব্যবহারের সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছে।
“আমেরিকা এখন ইরানের বাঙ্কার-বাস্টিং সক্ষমতা যাচাই করছে। যদি তেহরান কোনো হঠকারী পদক্ষেপ নেয়, তবে এই মিসাইলগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো শহরকে শ্মশানে পরিণত করতে পারে।” — প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
শেষ কথা: ইরানের এস-৩০০ (S-300) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কি পারবে আমেরিকার এই ‘অদৃশ্য’ হামলা রুখতে? নাকি এই মিসাইল যুদ্ধের মাধ্যমেই শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।