কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভের জের, এবার অ্যাকশন মোডে পুলিশ! তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-র দপ্তরের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তাপ বাড়ছে। এই ঘটনায় পুলিশের পাঠানো নোটিসের জবাবে আপাতত ১০ দিন সময় চাইলেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট কাউন্সিলর এবং শিক্ষক নেতা। রবিবার হেয়ার স্ট্রিট থানায় ই-মেল করে নিজেদের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে হাজিরা এড়ানোর আবেদন করেছেন তাঁরা।

বিক্ষোভের নেপথ্যে কী? গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু ও শচীন সিং এবং শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁদের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক ছিলেন। অভিযোগ, নির্বাচনী বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও দপ্তরের বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ মামলা রুজু করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল।

কেন সময় চাইলেন নেতারা? তৃণমূলের ওই দুই কাউন্সিলর জনপ্রতিনিধি হওয়ায় বর্তমানে নির্বাচনের কাজে চরম ব্যস্ত। সেই যুক্তি হেসেই তাঁরা পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, ভোটের প্রচার এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে এখনই থানায় হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। অন্তত ১০ দিন পর তাঁরা তদন্তে সহযোগিতা করতে পারবেন বলে ই-মেলে জানিয়েছেন।

কমিশনকে কড়া রিপোর্ট দিচ্ছে রাজ্য: মঙ্গল ও বুধবারের দফায় দফায় হওয়া এই বিক্ষোভ নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিচার করছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে এবং কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আজ অর্থাৎ ৫ এপ্রিলের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া হবে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কড়া বিভাগীয় পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।