‘বিচারকদেরও নিরাপত্তা নেই, বাংলায় চলছে মহা-জঙ্গলরাজ!’ কোচবিহার থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমণ মোদির

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের প্রথম দিনেই উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূল সরকারকে ধুয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মালদহের মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক হিংসা। সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দি করে রাখার ঘটনাকে ‘মহা-জঙ্গলরাজ’ বলে তোপ দাগলেন তিনি।
বিচারব্যবস্থার টুঁটি চিপছে তৃণমূল: প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন, যখনই দেশের বিচারব্যবস্থা বা কোনো সাংবিধানিক সংস্থা তৃণমূলের অরাজকতার রাশ টানতে চায়, তখনই তারা সেই সংস্থার ‘গলা টিপে ধরে’। মোদি বলেন, “গোটা দেশ দেখেছে মালদহে বিচারকদের সঙ্গে কী হয়েছে। এটা শুধু ঔদ্ধত্য নয়, এটা এই নির্দয় সরকারের তৈরি করা জঙ্গলরাজ। যেখানে বিচারকরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কীভাবে?”
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও ‘আইনের শেষযাত্রা’: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখন এতটাই হাতের বাইরে যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। মোদির ভাষায়, “তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গে আইন-ব্যবস্থার শেষযাত্রা বের করেছে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ।” উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর যে হামলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে তার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA)।
ভোটের লাইনে জবাবের ডাক: এদিন কোচবিহারের সভায় উপচে পড়া ভিড় দেখে আত্মবিশ্বাসী মোদি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এই অরাজকতা আর সহ্য করবে না। একদিকে নিয়োগ দুর্নীতি, অন্যদিকে বিচারকদের ওপর হামলা— সব মিলিয়ে তৃণমূলের আয়ু যে ফুরিয়ে এসেছে, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, চার মে-র পর বাংলায় আসল পরিবর্তন আসবে এবং প্রত্যেকটি অন্যায়ের হিসাব নেওয়া হবে।