“নির্বাচন কমিশনের মেগা স্ট্রাইক! ৫ রাজ্যে বিপুল মদ-টাকা-উপহার উদ্ধার, দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ?”

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বাজতেই কড়া ‘অ্যাকশন মোডে’ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য থেকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো ৬৫০ কোটি টাকার মদ, নগদ টাকা, মাদক দ্রব্য এবং উপহার সামগ্রী। তবে সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হলো, এই বিশাল অঙ্কের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৩১৯ কোটি টাকাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে।

মদ, মাদক ও ‘ফ্রি-বিজের’ পাহাড় কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২১ লক্ষ লিটারেরও বেশি মদ (যার বাজারমূল্য ৫৫ কোটি টাকা), ৬৫ কোটি টাকার ড্রাগস এবং প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ‘ফ্রি-বিজ’ বা উপহার সামগ্রী। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের এই বিশাল ধরপাকড় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

একবালপুরে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের পর্দাফাঁস ভোটের আবহে কলকাতায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (NCB) এক অভিযানে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। একবালপুর এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী শেখ মুনিরের স্ত্রী শায়েস্তা খান-সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাদক এবং লক্ষাধিক টাকার গয়না। তদন্তে জানা গিয়েছে, মুনির ফিলিপিন্সে ধরা পড়ার পর তাঁর স্ত্রী কলকাতা থেকেই এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিলেন।

আমেরিকা টু কলকাতা: ভায়া ভোট? এনসিবি-র (NCB) আইনজীবীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে এমন কিছু নিষিদ্ধ ড্রাগ রয়েছে যা সরাসরি আমেরিকা থেকে আনা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখে এত বিপুল পরিমাণ মাদক ও টাকা কি ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হতো? শায়েস্তা খান এবং তাঁর সহযোগী রাসেল ডিক্রুজকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের শিকড় খোঁজার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

নির্বাচন কমিশনের এই ৩১৯ কোটির রেকর্ড উদ্ধার প্রমাণ করছে যে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে পর্দার আড়ালে কত বড় ‘খেলা’ চলছে। আগামী দিনে নজরদারি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।