অ্যাকাউন্টে ঢুকবে মোটা টাকা! বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে বড় চমক রাজ্য সরকারের

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানো নিয়ে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নবান্ন। অর্থ দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান এবং রাজ্যজুড়ে কর্মীদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক কিস্তিতেই মিটবে বকেয়া নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিপূর্বেই শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় এই বকেয়া টাকা দুটি কিস্তিতে (মার্চ ও সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেওয়ার কথা থাকলেও, অর্থ দপ্তরের ২৩ মার্চের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজ্য সরকার পিছু হটেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এক কিস্তিতেই সম্পূর্ণ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। মূলত মার্চ মাসেই অধিকাংশ কর্মীর বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ শীর্ষ আদালত ডিএ-কে কর্মীদের নিছক দান নয়, বরং ‘আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। সেই আইনি চাপের মুখে নবান্ন এখন তৎপর।

বাকি ছিল যারা, এবার পাবেন তারাও পূর্ববর্তী ধাপে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী বকেয়া টাকা পাননি। নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এবার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই বঞ্চিত কর্মীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে প্রতিটি কর্মীর ‘ই-সার্ভিস বুক’ (e-Service Book) ডিজিটাল করার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করা হয়েছে।

মৃত কর্মীদের পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাজ্য অর্থ দপ্তরের ২৩ শে মার্চের বিশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, মৃত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের বকেয়া টাকা যাতে তাঁদের মনোনীত উত্তরাধিকারীরা পান, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে—বিজ্ঞপ্তি জারির ১৮০ দিনের মধ্যে উত্তরাধিকারীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জমা করতে হবে। নবান্ন স্পষ্ট করেছে, পেনশনভোগীদের বকেয়া সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

ডিএ-র বর্তমান হার ও ভবিষ্যৎ ২০২৬ সালের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আরও ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করায় বর্তমানে রাজ্যের ডিএ-র হার দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। যদিও কেন্দ্রীয় হারের তুলনায় ব্যবধান এখনও বর্তমান, তবে বকেয়া মেটানোর এই নির্দিষ্ট সময়সীমা কর্মীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন অবিলম্বে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) এবং নমিনি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে নেন যাতে টাকা ঢুকতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না ঘটে।