নির্বাচনী ডিউটিতে থেকেও ‘রাজনৈতিক প্রেম’! পানিহাটির সেক্টর অফিসারকে ঘাড়ধাক্কা কমিশনের

ভোটের আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল নির্বাচন কমিশন। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে এক সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অকাট্য প্রমাণ মিলতেই তাঁকে পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলো। অভিযুক্ত ওই অফিসারের নাম অতনু চক্রবর্তী। তিনি পেশায় চৌধুরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হলেও বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে অতনু চক্রবর্তীকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সরকারি কর্মীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নজরে এলে দ্রুত তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর এই আচরণ ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থী এবং দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির শামিল।
এর পরই কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। পাশাপাশি, কেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনায় কাজে গাফিলতির অভিযোগে বহরমপুর থানার আইসির বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় জড়িত চার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিশনের এই একের পর এক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।