‘মমতার বিভাজনের রাজনীতি এবার শেষ!’ দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা

রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের একবার বারুদের গন্ধ। ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশলের কড়া সমালোচনা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ করে আসছেন। তবে এবার আর সেই কৌশল সফল হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল ভিত্তিই হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। বিজেপি নেতার দাবি, এতদিন এই বিভাজনের কার্ড খেলেই রাজনৈতিক বৈতরণী পার করেছে শাসকদল। কিন্তু বর্তমানে সময় বদলেছে। সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন মানুষ সবসময় তাঁর এই ফাঁদে পা দেবে, কিন্তু দিন পাল্টেছে। মানুষ এখন স্বার্থপর রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা চাইছে।”
দিলীপ ঘোষ আরও যোগ করেন যে, রাজ্যের মানুষ এখন শান্তিতে বাঁচতে চায়। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর তুষ্টিকরণ নয়, বরং সমান অধিকার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই এখন আমজনতার প্রধান চাহিদা। শিক্ষা, শিল্প এবং স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো যখন ধুঁকছে, তখন ধর্মীয় বা জাতিগত বিভাজন দিয়ে আর মন ভোলানো যাবে না।
তৃণমূল নেত্রীকে বিঁধে তিনি সাফ জানান, উন্নয়নের বিকল্প কেবল উন্নয়নই হয়, বিভাজন নয়। যদি শাসকদলের স্ট্র্যাটেজি কেবল ভোটব্যাঙ্ক নির্ভর বিভাজনের ওপর টিকে থাকে, তবে আসন্ন দিনগুলোতে তারা মানুষের থেকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যাত হবে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। ঘাসফুল শিবিরের পালটা প্রতিক্রিয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।