বিশেষ: অগ্নি-৫ থেকে কে-৪; ভারতের এই ব্রহ্মাস্রগুলোর ক্ষমতা জানলে চমকে উঠবেন!

যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে গিয়েছে। এখন আর কেবল সীমান্তে কামান বা বন্দুকের লড়াই নয়, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ড্রোন বা আধুনিক মিসাইলের মাধ্যমে ঘরে বসেই শত্রুপক্ষকে ধুলিসাৎ করা সম্ভব। ভারতও এখন এই প্রযুক্তিতে বিশ্বের প্রথম সারিতে। আমেরিকা বা চিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারত তৈরি করেছে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র, যা নিমিষেই মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ভারতের ‘গেম চেঞ্জার’ মিসাইলগুলো ঠিক কত দূর যেতে পারে?
ভারতের মিসাইল প্রযুক্তির মেরুদণ্ড হলো ‘অগ্নি’ (Agni) সিরিজ। এর রেঞ্জ এবং ধ্বংসক্ষমতা বিশ্বজুড়ে চর্চার বিষয়:
-
Agni-V (অগ্নি-৫): ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার মিসাইল। এর রেঞ্জ ৫,০০০ থেকে ৫,৫০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এটি এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে আঘাত হানতে সক্ষম। চিনের প্রায় প্রতিটি শহর এর নাগালে।
-
Agni-IV (অগ্নি-৪): এর পাল্লা ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত নির্ভুল এবং দ্রুত মোতায়েনযোগ্য। মাঝারি পাল্লার হামলার জন্য এটি ভারতের তুরুপের তাস।
-
Agni-III (অগ্নি-৩): এর রেঞ্জ ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত ভারী যুদ্ধাস্ত্র বা ওয়ারহেড বহন করতে পারে।
-
Agni-II (অগ্নি-২): এর পাল্লা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার। মোবাইল লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম থেকে এটি অনায়াসেই ছোঁড়া যায়।
-
Agni-I (অগ্নি-১): এটি স্বল্প দূরত্বের কিন্তু বিধ্বংসী। এর রেঞ্জ ৭০০ থেকে ৯০০ কিলোমিটার।
সমুদ্রের নিচ থেকেও হামলা: ‘K’ সিরিজ
স্থলভাগ ছাড়াও ভারতের শক্তি লুকিয়ে আছে অতল সমুদ্রে। সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থেকে লঞ্চ করার জন্য ভারতের কাছে রয়েছে বিশেষ মিসাইল:
-
K-4 Missile: এর রেঞ্জ প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার।
-
K-15 Missile: এর রেঞ্জ প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার।
কেন এই মিসাইলগুলোকে আটকানো অসম্ভব?
এই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে যায়। এরপর নির্দিষ্ট পজিশনে পৌঁছে শব্দের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি গতিতে টার্গেটের দিকে নেমে আসে। এতে থাকে আধুনিক স্যাটেলাইট গাইডেন্স সিস্টেম, যা হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও একটি নির্দিষ্ট বিল্ডিংকে নির্ভুলভাবে টার্গেট করতে পারে।
শান্তির জন্য শক্তি
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, Agni-V বর্তমানে ভারতের শ্রেষ্ঠ ডিফেন্স মেকানিজম। এই শক্তি ভারতের কাছে আছে বলেই শত্রুদেশগুলো আক্রমণ করার আগে দুবার ভাবে। ভারতের এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আসলে যুদ্ধের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার এক শক্তিশালী ঢাল।
ভারতের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিতে আপনি কতটা গর্বিত? কমেন্টে জানান আমাদের!