মহাকাশ থেকে ভেসে এল ‘নীল গ্রহ’-র অবিশ্বাস্য রূপ! নাসার অরিওন ক্যামেরায় ধরা পড়ল আপনার ঘর

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে চার মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘আর্টেমিস ২’ (Artemis II) মিশনের অরিওন স্পেসক্রাফ্ট। সফল উৎক্ষেপণের ঠিক একদিন পরেই মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর দুটি শ্বাসরুদ্ধকর ছবি প্রকাশ করল নাসা (NASA)। গত প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর চাঁদের কাছাকাছি কোনো অঞ্চল থেকে তোলা পৃথিবীর এই উচ্চ-রেজোলিউশন ছবি দেখে মুগ্ধ বিশ্ববাসী।
অরিওনের জানলা দিয়ে দেখা পৃথিবী:
ফ্লাইট কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান অরিওন ক্যাপসুলের একটি জানলা থেকে প্রথম ছবিটি তুলেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে মহাকাশের নিকষ কালো অন্ধকারের মাঝে নীল গ্রহের একটি অংশ। ঠিক যেন এক টুকরো নীল হিরে। দ্বিতীয় ছবিটিতে সমগ্র বিশ্বকে দেখা যাচ্ছে, যেখানে নীল মহাসাগরগুলো সাদা মেঘের আবরণে ঢাকা। নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেম লিডার লাকিয়েশা হকিংস আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “এই ছবিতে মহাকাশে থাকা চারজন মহাকাশচারী বাদে পৃথিবীর বাকি আটশ কোটি মানুষই উপস্থিত রয়েছেন।”
কতটা পথ পাড়ি দিলেন মহাকাশচারীরা?
নাসার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অরিওন স্পেসক্রাফ্ট ১ লক্ষ ১০ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করেছে। চার মহাকাশচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন এখনও প্রায় দেড় লক্ষ মাইল পথ পাড়ি দেবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সোমবার তাঁরা তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে অর্থাৎ চাঁদের কক্ষপথের সন্নিকটে পৌঁছে যাবেন।
আর্টেমিস ২ মিশনের লক্ষ্য:
এটি কোনো সাধারণ চন্দ্রাভিযান নয়। নাসা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গ্রাফিক্স ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়েছে, অরিওন স্পেসক্রাফ্ট প্রথমে পৃথিবীর চারপাশে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে শক্তি সঞ্চয় করবে। এরপর সেটি চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনে মোট ৩১টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যা মহাকাশযানের ভেতর এবং বাইরের প্রতিটা মুহূর্তের হাই-ডেফিনিশন দৃশ্য রেকর্ড করছে। মূলত আগামী দিনে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার আগে মহাকাশচারীদের নিরাপত্তা এবং মহাকাশযানের কার্যকারিতা যাচাই করাই এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য।