সেভিংস অ্যাকাউন্টে কত টাকা রাখা নিরাপদ? সীমা ছাড়িয়ে গেলেই কি আসবে ইনকাম ট্যাক্স নোটিশ? জেনে নিন জরুরি নিয়ম!

আপনার কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখার প্রধান মাধ্যম হলো ব্যাঙ্ক। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী—প্রত্যেকেরই একটি করে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে এই সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা রাখা যায়? আয়কর বা জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে আপনার কী কী করা উচিত? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) গাইডলাইন এবং বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী আপনার জন্য জরুরি তথ্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।
টাকা রাখার কি কোনো উর্ধ্বসীমা আছে?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। আপনি আপনার ইচ্ছা মতো যে কোনো পরিমাণ টাকা ব্যাঙ্কে রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ব্যাঙ্কে জমানো প্রতিটা পয়সার বৈধ উৎস বা আয়ের প্রমাণ থাকা জরুরি।
কখন আয়কর দফতরের নজরে পড়বেন?
অ্যাকাউন্টে টাকা রাখার কোনো সীমা না থাকলেও, লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকারের কড়া নজরদারি রয়েছে। একটি আর্থিক বছরে (Financial Year) যদি আপনি আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে নগদ ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা করেন, তবে ব্যাঙ্ক সেই তথ্য সরাসরি আয়কর দফতরকে (Income Tax Department) জানাতে বাধ্য। শুধু সেভিংস অ্যাকাউন্ট নয়, ১০ লক্ষ টাকার বেশি ফিক্সড ডিপোজিট (FD) করলেও সেই তথ্য আয়কর দফতরের কাছে পৌঁছে যায়। যদি আপনার আয়ের উৎসের সাথে জমানো টাকার সামঞ্জস্য না পাওয়া যায়, তবে আপনাকে নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
সুদের ওপর করের নিয়ম:
অনেকে মনে করেন ব্যাঙ্কে টাকা রাখলেই নিশ্চিন্ত, কিন্তু আয়ের ওপর করের হিসাবটাও মাথায় রাখা জরুরি। আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা টাকার ওপর বার্ষিক সুদ যদি ১০,০০০ টাকার বেশি হয়, তবে তা আয়করের আওতায় চলে আসে। আয়কর আইনের ৮০টিটিএ (80TTA) ধারা অনুযায়ী এই ছাড় পাওয়া যায়, তবে সিনিয়র সিটিজেনদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিনিয়োগের সেরা উপায়:
সাধারণত সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের হার খুবই কম (২.৫% থেকে ৪%)। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, বিপুল পরিমাণ টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে অলস ফেলে না রেখে ফিক্সড ডিপোজিট বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা অনেক বেশি লাভজনক। এতে যেমন বার্ষিক ৭% থেকে ২০% পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব, তেমনই আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়। মনে রাখবেন, সচল না থাকা অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা রাখলে সাইবার অপরাধীদের নজর পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই স্মার্টলি সেভিংস করুন এবং নিয়ম মেনে চলুন।