TMC-র হয়ে প্রচারের মাশুল! খণ্ডঘোষের যুগ্ম BDO-কে সাসপেন্ড করল কমিশন

লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করতে রাজি নয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের যুগ্ম বিডিও (Joint BDO) জ্যোৎস্না খাতুনকে সরাসরি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—সরকারি পদে থেকেও তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।
⚖️ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও কড়া নির্দেশ
জ্যোৎস্না খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠা এই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালকে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে:
-
জ্যোৎস্না খাতুনকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারিত করে সাসপেন্ড করতে হবে।
-
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে।
-
এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা জানিয়ে শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (ATR) জমা দিতে হবে।
🗳️ বিরোধীদের নালিশ ও কমিশনের সক্রিয়তা
নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার পর কোনো সরকারি আধিকারিক সরাসরি কোনো দলের প্রচারে নামলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। খণ্ডঘোষের যুগ্ম বিডিও-র এই ‘অতি-সক্রিয়তা’ নিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলো। তাঁদের অভিযোগের সারবত্তা পেয়েই কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিল বলে মনে করা হচ্ছে।
🔄 হাঁসখালির ঘটনার ছায়া
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই গত ৩১ মার্চ নদিয়ার হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যকেও একই রকমভাবে সাসপেন্ড করেছিল নির্বাচন কমিশন। রানাঘাটের একটি স্কুলে ভোটকর্মীদের ট্রেনিং চলাকালীন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের ভিডিও দেখানোর মাধ্যমে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খণ্ডঘোষের যুগ্ম বিডিও-র সাসপেনশন রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।