“২২টি গাড়ির কনভয় নিয়ে মালদহে NIA!”-বিচারকদের হেনস্থার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা

ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে উত্তপ্ত মালদহের মোথাবাড়ি। সেখানে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে (Judicial Officers) হেনস্থার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ (NIA)। দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন তদন্তকারীরা।

🚔 ৪০ সদস্যের টিম ও ১০০ জওয়ান: যুদ্ধকালীন তৎপরতা

শুক্রবার সকালে এনআইএ-র ডিআইজি পি.এইচ. মহেশ নারায়ণের নেতৃত্বে ৪০ জনের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লির নির্দেশ পাওয়া মাত্রই মালদহের উদ্দেশে রওনা দেয়। তাঁদের নিরাপত্তায় ছিল অতিরিক্ত ৬০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। এমনকি তদন্ত প্রক্রিয়া তদারকি করতে এদিন সকালেই কলকাতায় পৌঁছেছেন এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং

🔍 বিডিও অফিস থেকে কালিয়াচক: এনআইএ-র রুট ম্যাপ

বিকেল ৪টে নাগাদ ২২টি গাড়ির বিশাল কনভয় নিয়ে মোথাবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তদন্তের শুরুতেই অফিসাররা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যান:

  • প্রথম ধাপ: আধিকারিকরা সরাসরি মোথাবাড়ি থানায় গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেন।

  • বিডিও অফিস পরিদর্শন: কালিয়াচক-২ নম্বর বিডিও অফিসেই বুধবার রাতে সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল। সেই অফিস এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।

  • হামলার রুট ম্যাপ: যে রাস্তা দিয়ে বিচারকদের গাড়ি যাওয়ার সময় হামলা চালানো হয়েছিল, সেই এলাকাগুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন এনআইএ-র গোয়েন্দারা।

😨 এলাকাছাড়া বাসিন্দারা, থমথমে মোথাবাড়ি

এনআইএ-র গাড়ি এলাকায় ঢুকতেই আতঙ্কে ঘর ছাড়তে শুরু করেছেন স্থানীয়দের অনেকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের ভয়ে অনেক দোকানদার দোকান বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বিকেলের পর থেকে গোটা এলাকা কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। যদিও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে এনআইএ-র পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে এখনও মুখ খোলা হয়নি।

⚖️ নেপথ্যে কী?

ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব আনলেও, আদালতের নির্দেশে এখন এনআইএ-র স্ক্যানারের নিচে স্থানীয় প্রশাসন এবং অভিযুক্তরা।