ইজরায়েলের বুকে ইরানের ‘পিনপয়েন্ট’ হামলা, ভয়ানক যুদ্ধে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে ইরান দাবি করল, তারা ইজরায়েলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর সদর দপ্তরে সরাসরি ও নিখুঁত (Pinpoint) হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তসনিম নিউজ’ (Tasnim News)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের এই হামলায় মোসাদের দপ্তরটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

🚀 মোসাদের দুর্গে ফাটল?
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, তেল আবিবে অবস্থিত মোসাদের প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তেহরানের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে এটি ইজরায়েলের অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইজরায়েল সরকার বা সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। কোনো নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এখনও ধ্বংসের মাত্রা যাচাই করতে পারেনি।

🔥 সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আগুনের লেলিহান শিখা
ইজরায়েল-ইরান এই ছায়াযুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও (UAE)। আবুধাবি প্রশাসন জানিয়েছে, আকাশপথে আসা একটি মিসাইলকে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রুখে দিলেও সেটির ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে হ্যাবশন (Habshan) গ্যাস কেন্দ্রের কাছে।

এর ফলে গ্যাস কেন্দ্রটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।

নিরাপত্তার খাতিরে আপাতত ওই কেন্দ্রের সমস্ত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে কোনো প্রাণহানির খবর মেলেনি।

🎭 দায় কার? ধোঁয়াশা কাটছে না
আবুধাবিতে আছড়ে পড়া ড্রোন বা মিসাইলগুলো ঠিক কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। আমিরশাহি সরাসরি ইরানের দিকে আঙুল না তুললেও ইরান পাল্টা দাবি করেছে, ইজরায়েল নিজেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে তেহরানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র করছে।

🌏 যুদ্ধের দোরগোড়ায় বিশ্ব?
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইজরায়েলের এই প্রত্যক্ষ সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। যদি মোসাদের দপ্তরে হামলার খবর সত্যি হয়, তবে ইজরায়েলের পক্ষ থেকে বিধ্বংসী পাল্টা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটা হলে জ্বালানি তেলের বাজার থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।