“গণনা শেষ, তাও পাহারা দেবে আধা-সেনা!”-ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট গ্রহণ এবং গণনা পর্ব মিটে যাওয়ার পরেও রাজ্যে মোতায়েন থাকবে বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
🛡️ কত বাহিনী থাকবে বাংলায়?
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যে মোতায়েন রাখা হবে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টহল দেবে। এছাড়াও:
-
স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা: ইভিএম এবং গণনা কেন্দ্রের সুরক্ষার জন্য আলাদাভাবে ২০০ কোম্পানি বাহিনী রাখা হবে।
-
ভোটের আগে প্রস্তুতি: নির্বাচনের আগেই ধাপে ধাপে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে আসছে, যার মধ্যে প্রথম দফার ২৪০ কোম্পানি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে।
🚨 কেন এই বিশেষ নজরদারি?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন কিংবা ২০২৪-এর লোকসভা ভোট— প্রতিবারই নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসা, মারপিট এবং সাধারণ মানুষের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের সেই রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে কোমর বেঁধে নামছে কমিশন।
🏛️ কমিশনের কড়া অবস্থান
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং জায়গায় জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে আসায় নির্বাচন কমিশন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: ১. গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় দায়িত্ব পালন করবে। ২. ভোট মিটে যাওয়ার কতদিন পর পর্যন্ত এই ৫০০ কোম্পানি বাহিনী থাকবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরে জানানো হবে।
🔍 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইতিমধ্যেই মালদহ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে শাসক দলের অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়— এই দুইয়ের মাঝে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে কমিশন। পাড়া-মহল্লায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং তল্লাশি এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে।