বক্সিং রিং থেকে ভোটের ময়দান, ৮২-তেও অপরাজিত! বালিগঞ্জে ‘দিদির প্রথম বিধায়ক’ শোভনদেবের অগ্নিপরীক্ষা

তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসের প্রথম বিধায়ক। বয়স ৮২ ছুঁইছুঁই, কিন্তু রাজনীতির ময়দানে আজও তিনি অপরাজেয়। একসময় বক্সিং রিং কাঁপানো এই নেতা এবার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। কথা হচ্ছে রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-কে নিয়ে। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এই পুরনো ঘাঁটিতে এবার অভিজ্ঞতার সঙ্গেই লড়াই হতে চলেছে তারুণ্যের।

অপরাজিত রাজনৈতিক সফর: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার হার না মানার এক অনন্য নজির।

  • ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বারুইপুর থেকে জয়ী হন।

  • ১৯৯৮ সালে তৃণমূল প্রতিষ্ঠার পর রাসবিহারী উপনির্বাচনে জিতে দলের প্রথম বিধায়ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

  • এরপর রাসবিহারী থেকে পাঁচবার এবং ২০২১-এ ভবানীপুর থেকে জয়ী হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আসন ছেড়ে দিয়ে পরে খড়দহ উপনির্বাচনেও বিশাল ব্যবধানে জেতেন তিনি।

বালিগঞ্জের চতুর্মুখী লড়াই: শোভনদেবের সামনে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছেন মূলত তরুণ প্রজন্ম: ১. আফরিন বেগম শিল্পী: ২৯ বছর বয়সী সিপিএমের তরুণ মুখ। ২. রোহন মিত্র: প্রয়াত সোমেন মিত্রের ছেলে তথা উচ্চশিক্ষিত কংগ্রেস প্রার্থী। ৩. ডঃ শতরূপা: বিজেপির অভিজ্ঞ প্রার্থী।

সম্পত্তি ও যোগ্যতা: ২০২১ সালের হলফনামা অনুযায়ী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৮৫ টাকা। পেশায় আইনজীবী শোভনদেব আশুতোষ কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক এবং হাজরা ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

শক্তি ও চ্যালেঞ্জ:

  • প্লাস পয়েন্ট: তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ।

  • মাইনাস পয়েন্ট: বয়সের ভার এবং দলের নিচুতলার কিছু কর্মীর সঙ্গে সাম্প্রতিক দূরত্ব। তরুণ ভোটাররা ৮২ বছর বয়সী এই নেতাকে কতটা গ্রহণ করবেন, সেটাই এখন দেখার।

এডিটরস নোট: বাবুল সুপ্রিয় রাজ্যসভায় যাওয়ার পর বালিগঞ্জের এই আসনটি ফিরে পাওয়া তৃণমূলের জন্য সম্মানের লড়াই। ‘বক্সার’ শোভনদেব কি তাঁর অভিজ্ঞতার পাঞ্চে বিরোধীদের কুপোকাত করতে পারবেন? বালিগঞ্জের রায়ই দেবে সেই উত্তর।