৯৭৬ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর পাহারায় ২১৮৫ পুলিশ! রাজ্যের ডিজি-কে তলব করে চরম হুঁশিয়ারি কমিশনের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তায় কেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (DG) সিদ্ধনাথ গুপ্ত-কে কড়া ‘প্রফেশনাল রিভিউ’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নজরে বিস্ফোরক তথ্য: কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্য সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ৮৩২ জন নেতা এবং আরও ১৪৪ জন সমর্থককে নিরাপত্তা দিতে মোট ২,১৮৫ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন করেছে। এই বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে ডিজি-কে।
বদলি নিয়ে নজিরবিহীন পরিসংখ্যান: শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, আধিকারিকদের গণ-বদলি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কমিশন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্য সরকার মোট ১,৩৭০ জন আধিকারিককে রদবদল করেছে:
-
আইএএস (IAS): ৯৭ জন
-
আইপিএস (IPS): ১৪৬ জন
-
ডব্লিউবিসিএস (WBCS): ১,০৮০ জন
-
ডব্লিউবিপিএস (WBPS): ৪৭ জন
কমিশনের কড়া পর্যবেক্ষণ: নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের ঠিক আগে এই ব্যাপক রদবদল প্রশাসনিক স্তরে অস্থিরতা তৈরি করেছে। কমিশন ইতিমধ্যে সীমিত কিছু বদলির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি সংশোধনের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তাঁদের সুরক্ষা অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এডিটরস নোট: ভোটের ময়দানে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কঠোর অবস্থান। ২১৮৫ জন পুলিশের সুরক্ষা কবচ কি এবার সরতে চলেছে তৃণমূল নেতাদের মাথার ওপর থেকে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।