ইরান যুদ্ধের মাঝেই সঙ্গীদের ‘কোপ’ ট্রাম্পের! কেন হঠাৎ বিশ্বস্ত অফিসারদের সরাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিভাষায় ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা জবরদস্তি শাসন বদল শব্দবন্ধটি সাধারণত বিদেশি শত্রু দেশের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অলিন্দে যা চলছে, তাকে অনেক বিশেষজ্ঞই ‘আভ্যন্তরীণ রেজিম চেঞ্জ’ বলে অভিহিত করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যেভাবে একের পর এক শীর্ষকর্তাকে পদ থেকে সরানো হচ্ছে, তাতে ঘনিয়ে উঠছে বড়সড় রহস্য।

ইরান যুদ্ধের ছায়া ও প্রশাসনিক রদবদল: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের প্রশাসনে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

  • তিন শীর্ষকর্তা বরখাস্ত: মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মার্কিন নিরাপত্তা কমিটি এবং পেন্টাগনের তিন হেভিওয়েট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।

  • বিশ্বাসঘাতকতার তকমা: ট্রাম্পের চোখে যাঁরা ‘অযোগ্য’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হচ্ছে না। পেন্টাগন থেকে হোয়াইট হাউস— সর্বত্রই চলছে বড় মাপের ‘ক্লিন আপ’ অপারেশন।

নিজের প্রতিশ্রুতি নিজেই ভাঙলেন ট্রাম্প? দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন “নো-স্ক্যাল্পস” (No-Scalps) নীতি। অর্থাৎ, তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগীদের হুটহাট বরখাস্ত করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরান সংঘাত শুরু হতেই সেই প্রতিশ্রুতি জলাঞ্জলি দিয়ে পুরনো মেজাজে ফিরেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ট্রাম্পের সেই পুরনো ‘রিভলভিং ডোর’ (Revolving Door) রাজনীতি হিসেবে, যেখানে কোনো পদের স্থায়িত্বই নিশ্চিত নয়।

নেপথ্যে কি ২০২৬-এর নির্বাচন? সব কিছুর আড়ালে রয়েছে আগামী নভেম্বর ২০২৬-এর মিডটার্ম (Midterm) বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটরা যখন মরণপণ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ট্রাম্প প্রশাসনকে ভেতর থেকে নিশ্ছিদ্র রাখতে চাইছেন। ইরান সংকটের উত্তাপের মধ্যে কোনো রকম প্রশাসনিক ‘ফাঁক’ রাখতে নারাজ হোয়াইট হাউস।

এডিটরস নোট: ইরানের সাথে যুদ্ধ যখন দোরগোড়ায়, তখন মার্কিন প্রশাসনের এই অভ্যন্তরীণ টালমাটাল অবস্থা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প কি পারবেন তাঁর ঘর সামলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জয়ী হতে? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামী কয়েক মাসের চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পদক্ষেপে।