“১৫ দিন কেন? সাহস থাকলে ৩৬৫ দিন বাংলায় থাকুন”, অমিত শাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর সেই লড়াইয়ের ময়দান থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের জনসভা থেকে তাঁর হুঙ্কার, “১৫ দিন নয়, ক্ষমতা থাকলে ৩৬৫ দিন বাংলায় এসে থাকুন।”
শাহ-র ঘোষণার পাল্টা চ্যালেঞ্জ: সম্প্রতি ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমার সময় অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, ভোটের আগে তিনি টানা ১৫ দিন বাংলায় থেকে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করবেন। শুক্রবার সেই বক্তব্যের রেশ টেনেই মমতা বলেন:
“ভোট এলেই ওঁরা আসেন, পরিযায়ী পাখির মতো। কিন্তু মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন না। সাহস থাকলে সারা বছর বাংলায় থেকে দেখান।”
‘বঙ্গভঙ্গ’ নিয়ে বড় অভিযোগ: এদিনের সভা থেকে কেবল কটাক্ষ নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও আনেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, লোকচক্ষুর আড়ালে বিজেপি বাংলার কিছু অংশ ভেঙে নতুন রাজ্য তৈরির পরিকল্পনা করছে। যদিও বিজেপির তরফে এই নিয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে মমতার এই ‘বাংলা ভাগ’ তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
২০২৬-এর লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী মমতা: নির্বাচনী নির্ঘণ্টের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এদিন ছিল প্রবল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন:
-
বাংলার মানুষ বিভাজনের রাজনীতি ধরে ফেলেছে।
-
বহিরাগত শক্তির কাছে বাংলা মাথা নত করবে না।
-
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে সাধারণ মানুষ।
বিজেপির পাল্টা প্রস্তুতি: অন্যদিকে, অমিত শাহ-র দফায় দফায় বঙ্গ সফর এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে, পদ্ম শিবিরও এবার এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। দিল্লি বনাম নবান্নের এই লড়াই এখন দক্ষিণ দিনাজপুরের গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এডিটরস নোট: ভোটের আগে মমতা বনাম শাহ-র এই সম্মুখ সমার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই ‘৩৬৫ দিনের চ্যালেঞ্জ’ যে বিজেপির অন্দরে চাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।