“৩৪% জনসংখ্যা হলেও প্রার্থী মাত্র ২৬%!”-অসমের ভোটে মুসলিম সমীকরণ, কোথায় গলদ?

১২৬টি বিধানসভা আসন, ৭২২ জন প্রার্থী—কিন্তু পরিসংখ্যানে ধরা পড়ছে এক গভীর বৈষম্য। অসমের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ মুসলিম হলেও, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় সেই প্রতিনিধিত্বের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আগামী ৯ এপ্রিলের মহারণের আগে অসমের এই ‘ভোটের অঙ্ক’ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা।

📊 পরিসংখ্যানের আয়নায় অসমের প্রার্থী তালিকা

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৮৮ জন, যা শতাংশের হিসাবে ২৬ শতাংশ। জনসংখ্যার তুলনায় এই হার অনেকটাই কম। দলভিত্তিক পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

  • বিজেপি: তাদের ৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে এক জনকেও মুসলিম টিকিট দেয়নি।

  • AIUDF: বদরউদ্দিন আজমলের দল সবচেয়ে বেশি ৮৭% মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে।

  • AGP: অসম গণ পরিষদ দিয়েছে ৪৬% মুসলিম মুখ।

  • তৃণমূল ও কংগ্রেস: তৃণমূল ৩২% এবং কংগ্রেস দিয়েছে ১৮% মুসলিম প্রার্থী।

🤝 জোটের রাজনীতি ও প্রতিনিধিত্ব

জোটের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘অসম মহাজোট’ (ASM) ১২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২২ জন (১৭%) মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন NEDA জোটে ১২৭ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম মাত্র ১৩ জন। মজার বিষয় হলো, শাসক জোটের এই ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই অসম গণ পরিষদের প্রার্থী। অর্থাৎ, বিজেপি ও শরিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কার্যত নগণ্য।

🗺️ ভৌগোলিক মেরুকরণ: যেখানে শুধুই মুসলিম প্রার্থী

অসমের নির্বাচনী ভূগোলেও এই বৈষম্য প্রকট। নিম্ন অসম এবং বরাক উপত্যকার হাতেগোনা কিছু কেন্দ্রে মুসলিম প্রার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

  • গৌরীপুর, জলেশ্বর, চামারিয়া এবং চেঙ্গা: এই চারটি কেন্দ্রে প্রার্থীরা সকলেই মুসলিম।

  • পাকাবেতবাড়ি ও আলগাপুর-কাটলিচেরা: এই কেন্দ্রগুলোতে যথাক্রমে ৮০% এবং ৯৪% প্রার্থীই মুসলিম সম্প্রদায়ের।

বিপরীত দিকে, রাজ্যের অধিকাংশ কেন্দ্রে একজনও মুসলিম প্রার্থী নেই। বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পকেটে মুসলিম প্রার্থীদের এই ভিড় এবং বাকি রাজ্যে তাঁদের অনুপস্থিতি স্পষ্ট মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক নজরে দলভিত্তিক মুসলিম প্রার্থী (%) | দল | মুসলিম প্রার্থী হার (%) | | :— | :— | | AIUDF | ৮৭% | | AGP | ৪৬% | | TMC | ৩২% | | কংগ্রেস | ১৮% | | বিজেপি | ০% |

নির্বাচনী ময়দানে এই জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।