দক্ষিণের রাজ্যগুলোর ক্ষমতা কি খর্ব হবে? মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ রুখতে একজোট বিরোধীরা

দেশজুড়ে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই মোদী সরকারের এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে যখন ভোট উৎসব চলছে, ঠিক তখনই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। আর এই পদক্ষেপকে ঘিরেই ঘনিয়ে উঠছে বড়সড় রহস্য ও আশঙ্কা।

৫৪৩ থেকে ৮০০ আসন? বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ডিলিমিটেশন: সূত্রের খবর, এই বিশেষ অধিবেশনে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮০০-র উপরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়লে উত্তরপ্রদেশের মতো গো-বলয়ের রাজ্যগুলো লাভবান হলেও দক্ষিণী রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁর মতে, এটি ভারতের ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর’ ওপর বড় আঘাত

কেন এই তাড়াহুড়ো? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা: কংগ্রেসের অভিযোগ, ২৯ এপ্রিল নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ১৬ এপ্রিল থেকে কেন এই অধিবেশন?

  • নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: জয়রাম রমেশের দাবি, ভোট চলাকালীন এমন গুরুত্বপূর্ণ বিল আনা আসলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা।

  • মহিলা সংরক্ষণ বিল: ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনীয়ম’ নিয়ে কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রমেশ বলেন, গত দু’বছর সরকার চুপ থাকলেও এখন ‘ডাবল ক্রেডিট’ নিতে মরিয়া বিজেপি।

রণকৌশল সাজাচ্ছেন খাড়গে-রাহুল: দিল্লি এখন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে জেপি নাড্ডা যখন বলছেন, অধিবেশন ডাকা সরকারের অধিকার; অন্যদিকে মল্লিকার্জুন খাড়গের পাল্টা অভিযোগ— সরকার বিতর্কিত বিলগুলো ‘বুলডোজ’ করে পাশ করিয়ে নিতে চাইছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে খুব শীঘ্রই ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।

আশঙ্কার মেঘ: যদি আসন সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যায়, তবে কি কেরল, তামিলনাড়ু বা বাংলার সংসদীয় গুরুত্ব কমে যাবে? এই প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।